“কুকুর-বিড়াল দাঁড় করালেও জিতবে ভাবছে ওরা!” ফলের আগের দিনই বিজেপিকে ধূলিসাৎ করার দাবি পিকে-র!

“কুকুর-বিড়াল দাঁড় করালেও জিতবে ভাবছে ওরা!” ফলের আগের দিনই বিজেপিকে ধূলিসাৎ করার দাবি পিকে-র!

সোমবার বিহারের বহুচর্চিত বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতে চলেছে। তবে ফল বেরোনোর ২৪ ঘণ্টা আগেই শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে খবরের শিরোনামে এলেন জন সুরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। পেশাদার ভোট-কুশলী থেকে সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখার পর এটিই পিকের প্রথম নির্বাচনী লড়াই।

রবিবার পাটনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পিকে দাবি করেন, বাঁকিপুরে বিজেপি এমন শোচনীয় হারের মুখ দেখবে যে ‘কুকুর-বিড়াল দাঁড় করালেও বিজেপি জিতবে’— এমন ঔদ্ধত্য দেখানোর সাহস শাসকদল আর কোনোদিন পাবে না।

‘কুকুর-বিড়াল’ মন্তব্য ঘিরে দ্বন্দ

নির্বাচনী প্রচার থেকেই পিকে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার মন্তব্যকে হাতিয়ার করেন। অভিযোগ, ওই বিজেপি নেতা নাকি দাবি করেছিলেন বাঁকিপুর বিজেপির এতটাই শক্ত ঘাঁটি যে সেখানে মানুষ কুকুর-বিড়ালকেও ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেবে। পিকে এটিকে ভোটারদের আত্মসম্মানে চরম আঘাত বলে কটাক্ষ করেন। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ।

পুলিশকে ‘অযোগ্য ও বোকা’ বলে তোপ

শুধু বিজেপি নয়, পাটনা পুলিশের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে ভোটগ্রহণের ঠিক আগে জন সুরজ পার্টির বহু নেতাকর্মীকে বেআইনিভাবে আটক করেছে পুলিশ। পাটনার এসএসপি কার্তিকীয় কে শর্মাকে ‘অযোগ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বোকা’ বলে কটাক্ষ করে পিকে বলেন, “প্রশাসনিক চেয়ারে বসে পক্ষপাতিত্ব করবেন না, রাজনীতি করতে চাইলে ইস্তফা দিয়ে ময়দানে নামুন।” পিকে জানান, নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং ডিজিপি আশ্বাস দিয়েছেন যে ভোট গণনাকেন্দ্রে পাটনার এসএসপি-র কোনো ভূমিকা থাকবে না।

বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বাঁকিপুর আসনটি খালি হয়। এখানে বিজেপির নীরজ কুমার ও আরজেডি-র রেখা কুমারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন প্রশান্ত কিশোর নিজেই। এখন সোমবারের গণনাতেই স্পষ্ট হবে—পিকের পূর্বাভাস সত্যি হয় নাকি বিজেপির তিন দশকের দুর্গ অক্ষত থাকে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *