হাফ প্যান্ট পরিয়ে বাজারে প্যারেড! বালিকা-মৃত্যু মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ বাঁকুড়ায়!

আদালতের কড়া নির্দেশ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিতর্কের মাঝেই আবারও পুলিশের ‘হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরানো’র ছবি সামনে এল। এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে ধৃত তৃণমূল নেতা সুব্রত দত্তকে প্রকাশ্যে হাফ প্যান্ট পরিয়ে বাজারে হাঁটাল পুলিশ।
কী নিয়ে পুরো বিতর্ক?
এর আগে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানসহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতারির পর হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরানো নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, অভিযুক্তের মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন আচরণ করা যাবে না। রাজ্য সরকারও আদালতে আশ্বাস দিয়েছিল, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। কিন্তু রবিবার বাঁকুড়ায় পাত্রসায়র থানার পুলিশ ফের একই দৃশ্যের অবতারণা করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ৩০ মার্চ পাত্রসায়র এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু ঘটে। অভিযোগ, সেই সময় রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে মৃতার পরিবারকে পুলিশে অভিযোগ জানাতে বাধা দেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি সুব্রত দত্ত ও তাঁর স্ত্রী পূরবী দত্ত মল্লিক। শুধু তা-ই নয়, ময়নাতদন্ত ছাড়াই নাবালিকার দেহ সৎকারে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি পরিবারটি পাত্রসায়র থানায় লিখিত অভিযোগ জানালে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ধৃত সুব্রতকে ৫ দিনের হেফাজতে নেয়।
রবিবারের পুলিশি পদক্ষেপ:
রবিবার দুপুরে টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় ধৃত সুব্রত দত্তকে পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সংলগ্ন এলাকায় হাত ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। দৃশ্যত তাঁকে বাজারে ‘প্যারেড’ করানো হয়। সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হলেও, ধৃতকে কেন হাফ প্যান্ট পরিয়ে হাঁটাতে হলো—সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।