‘জোড়া ফুল’ ছাড়া নতুন কী প্রতীক? আইনি লড়াইয়ের মাঝেই কালিঘাটের সারপ্রাইজ ‘প্ল্যান বি’!

তৃণমূলের ঐতিহাসিক ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের? এই প্রশ্নকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। লড়াই গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর পর্যন্ত, যেখানে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। গত সপ্তাহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে চিঠি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—অন্য পক্ষকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, এবার কমিশন যেন দ্রুত তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।
তবে এই টানটান স্নায়ুযুদ্ধের আবহেই এক বিস্ফোরক জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই জারি রাখলেও হাত গুটিয়ে বসে নেই কালিঘাট শিবির। রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে তারা গোপনে তৈরি রাখছে দলের একটি বিকল্প প্রতীক। নিয়ম অনুযায়ী, দলের সিংহভাগ সাংসদ, বিধায়ক এবং দলীয় সংগঠনের সমর্থন যার দিকে থাকবে, তাঁকেই আসল প্রতীক বরাদ্দের নীতি কমিশনের।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, “মানুষ যে প্রতীক বেছে নেবে, সেটাই আমার প্রতীক।” সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, জোড়া ফুল হাতছাড়া হলে লড়াই আইনি পথেই চলবে, তবে মমতার ভাবনায় রাখা নতুন বিকল্প লোগোতেও নাকি ফুলেরই ছোঁয়া থাকছে!
এ বিষয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল। এই জোড়া ফুল প্রতীককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড, কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।”
কমিশন এখন কী রায় দেয় সেদিকে নজর সবার, তবে কালীঘাট শিবির যে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রাখছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।