গেমিং অ্যাপে মগজধোলাই থেকে ‘ডেড ড্রপ’ কাণ্ড, জঙ্গি হামিমের রহস্যময় নেটওয়ার্ক ফাঁস করল STF!

কলকাতা: বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ঝাড়খণ্ড থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারের পর এবার এসটিএফ-এর (STF) জালে ধরা পড়েছে তার অন্যতম সহযোগী আদিত্য সিং ওরফে রাজু।
তদন্তকারীদের দাবি, হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্য সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে অপহরণের গোপন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এই আদিত্যর।
‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতিতে টাকা ও সিম লেনদেন
হামিমের কাছে সরাসরি টাকা বা সিম আসত না। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অপরাধমূলক কাজের জন্য তারা ‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতি ব্যবহার করত। এই পদ্ধতিতে কোনো গোপন নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা বা সিম রেখে যাওয়া হতো, আর বার্তা (Message) পাওয়ার পর হামিম গিয়ে তা সংগ্রহ করত। একাধিক হাওলা কারবারির হাত ঘুরে এই টাকা পৌঁছত।
গেমিং অ্যাপে মগজধোলাই ও স্লিপার সেল
তদন্তে জানা গেছে, পুরো চক্রটি একটি আন্তর্জাতিক ‘স্লিপার সেল’-এর মতো পরিচালিত হতো।
- অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে আদিত্যর সাথে হামিমের পরিচয় হয়।
- পরবর্তীতে আদিত্যর মগজধোলাই করে তাকে উমেশ রাইয়ের ওপর নজরদারি চালানোর কাজ দেয় হামিম।
- হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আদিত্যর খোঁজ পায় পুলিশ। অর্পিতাও হামিমের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেত।
এনক্রিপ্টেড অ্যাপে কথা ও স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার আশঙ্কা
ধৃত হামিম, আদিত্য, আবিদ এবং রাণার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নিজেদের মধ্যে গোপনীয়তা বজায় রাখতে তারা ‘Session’ নামের একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করত। গোয়েন্দারা বর্তমানে ওই অ্যাপের মেসেজ ও ডেটা উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন।
আসন্ন স্বাধীনতা দিবসে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে STF। একাধিক রাজ্যে এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।