বিজেপির পর এবার তৃণমূল থেকেও ইস্তফা চন্দ্র কুমার বসুর, কারণ দর্শালেন নেতাজির পরিবারের সদস্য

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় চমক। বিজেপির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও ইস্তফা দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসু। সোমবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঘাসফুল শিবিরের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। তবে তাঁর এই ইস্তফা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিজেপি ত্যাগের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্র কুমার বসু। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাঁর একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। মোদী-শাহদের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছিলেন, নেতাজির জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল বিজেপি। তবে এক বছরের মাথায় তৃণমূলের সঙ্গেও মোহভঙ্গ হলো তাঁর।
একনজরে চন্দ্র কুমার বসুর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন:
- রাজনৈতিক যাত্রা: ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। ওই বছরই বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়েন তিনি। ২০১৬ সালে তাঁকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি করা হলেও ২০২০ সালে সাংগঠনিক রদবদলে সেই পদ খোয়ান।
- শিক্ষাগত ও কর্পোরেট জীবন: রাজনীতিতে আসার আগে চন্দ্র কুমার বসু দীর্ঘ দিন কর্পোরেট জগতে কাজ করেছেন। লন্ডনের হেনডন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করার পর তিনি আইআইএম কলকাতা (IIM Calcutta) থেকে ম্যানেজমেন্ট শেষ করেন। টাটা স্টিলে প্রায় ১৮ বছর কাজ করার পর ২০০৪ সালে মানবসম্পদ (HR) পরামর্শক সংস্থা Bose Information Technology Pvt Ltd প্রতিষ্ঠা করেন।
- নেতাজির উত্তরাধিকার রক্ষা: ‘Open Platform for Netaji’-এর মুখপাত্র হিসেবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ্যে আনা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সত্য ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন।