‘৫০-৭০ জনের জন্য একটা শৌচাগার!’ জেলের দিনগুলির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন সালমান

দর্শকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রিয়্যালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ হাজির হলেন বলিউডের ভাইজান, সালমান খান। ভাই সোহেল খান এই শো-এর প্রতিযোগী হওয়ার পর থেকেই সালমানের আসার জল্পনা তুঙ্গে ছিল। শো-তে ঢুকে মজার ছলে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না, আমি এখানে সঞ্চালনা করতে আসিনি।” তবে শুধু হাসি-ঠাট্টাই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু অজানা ও আবেগঘন কথা শেয়ার করেছেন তিনি।
প্রোমোতে দেখা যায়, কারাগারে কাটানো কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করছেন সালমান। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার ও চিঙ্কারা হরিণ শিকার মামলায় একাধিকবার জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জেলে অত্যন্ত ছোট একটি জায়গায় বহু বন্দির সঙ্গে তাঁকে থাকতে হতো। প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জন বন্দির জন্য মাত্র একটিই ভারতীয় শৌচাগার ছিল! সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা এখনও তাঁর মনে স্পষ্ট।
তাছাড়া শো-তে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি এক প্রতিযোগীকে বয়স নিয়ে কটাক্ষ করার জন্য সতর্কও করেন তিনি। সঞ্চালক মিনি মাথুরকে নিয়ে রসিকতা করে বলেন, “এবার বুঝতে পারছি কবীর তোমাকে কেন এত ভয় পায়!”
অন্যদিকে, ‘অ্যালায়েন্স’-এর ঘরে সোহেল খানের সময়টাও ভালো যাচ্ছিল না। প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সাজদেহ শো থেকে বাদ পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ফাইনালের আগে জোট গঠনের সময় অন্য প্রতিযোগীরা তাঁকে দলে নিতে অনীহা দেখালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সহ-প্রতিযোগী আরসলান গনি বারবার তাঁকে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে বিরক্ত হয়ে সোহেল স্টোররুমের দরজায় লাথি মেরে তা ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনার পর তাঁকে কিছু সময়ের জন্য শো-এর মূল ঘরের বাইরে রাখা হয়।
পরে ফিরে এসে সোহেল অভিযোগ করেন, সীমা সাজদেহকে বাদ দেওয়ার পেছনে আরসলানের হাত ছিল। যদিও আরসলান সে কথা অস্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন।
ঠিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই শো-তে প্রবেশ ঘটে সালমান খানের। ভাই সোহেলকে সামলানোর পাশাপাশি বাকিদের সঙ্গে সালমানের খোলামেলা আড্ডা এবং নিজের জীবন থেকে শেখা পাঠ দর্শকদের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী পর্বে সোহেল-সীমার সম্পর্ক এবং সালমানের জীবন নিয়ে আর কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর অনুরাগীদের।