সীমান্ত থেকে রিঙে বাজিমাত: কমনওয়েলথে ভারতের ৩৯ পদকের ৪১%-ই সেনার দখলে!

সীমান্ত থেকে রিঙে বাজিমাত: কমনওয়েলথে ভারতের ৩৯ পদকের ৪১%-ই সেনার দখলে!

২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ—সব মিলিয়ে ৩৯টি পদক জিতে তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। এই দুর্দান্ত সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন দেশের রক্ষক অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অ্যাথলিটরা। দেশের মোট পদকের প্রায় ৪১ শতাংশই এসেছে সেনাকর্মীদের হাত ধরে।

পরিসংখ্যানের চমক: কম সংখ্যায় বাজিমাত

ভারতের ১২২ সদস্যের অ্যাথলিট দলে সেনাকর্মী ছিলেন মাত্র ২০ জন (দলের ১৬ শতাংশ)। অথচ পদক জয়ের ক্ষেত্রে এই ২০ জনের মধ্যে ১৬ জনই জয়ী হয়েছেন। তাঁদের হাত ধরে এসেছে ৮টি সোনা, ৭টি রুপো এবং ১টি ব্রোঞ্জ

এক নজরে সেনার তারকা পারফর্মাররা

  • নীরজ চোপড়া: চোট কাটিয়ে ফিরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে জিতে নেন রুপো।
  • গুলবীর সিং: নায়েব সুবেদার গুলবীর সিং অ্যাথলেটিক্সে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ১০,০০০ মিটারে রুপো এবং ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ—জোড়া পদক এনে দেন।
  • বক্সিংয়ে সেনা জওয়ানদের রাজত্ব: কমনওয়েলথে ভারত বক্সিং থেকে যে ৭টি সোনা জিতেছে, তার মধ্যে ৬টিই এনেছেন সেনা অ্যাথলিটরা।
    • পুরুষ বিভাগে: শচীন শিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল (৮০ কেজি) সোনা জেতেন।
    • মহিলা বিভাগে: সেনাবাহিনীর ৫ জন মহিলা বক্সারের সবাই সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তাঁরা হলেন—সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি) এবং প্রিয়া ঘাঙ্গাস (৬০ কেজি)। উল্লেখ্য, প্রিয়া ও সাক্ষী সম্পর্কে তুতো বোন।

সাফল্যের চাবিকাঠি: ‘মিশন অলিম্পিক’

সেনাবাহিনীর এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁদের বিশেষ ‘মিশন অলিম্পিক’ প্রকল্প। পুণের ‘আর্মি স্পোর্টস ইনস্টিটিউট’-এ ‘সাই’ (SAI)-এর সহযোগিতায় তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

ক্রীড়াবিদদের সেনার স্থায়ী পদমর্যাদা ও বেতন সুনিশ্চিত থাকায় আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হয়, যা দরিদ্র বা সাধারণ পরিবার থেকে আসা অ্যাথলিটদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।

উপসংহার: গ্লাসগো ২০২৬ প্রমাণ করে দিল—ভারতীয় সেনাবাহিনী কেবল দেশের সীমান্ত পাহারা দেয় না, বিশ্বজয়ী অ্যাথলিট তৈরিতেও তাঁরা সমান পারদর্শী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *