‘চোখের চিকিৎসার বাহানা, আসল লক্ষ্য দেশ ছেড়ে পালানো!’ অভিষেকের কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে বিস্ফোরণ ঋতব্রতের

‘চোখের চিকিৎসার বাহানা, আসল লক্ষ্য দেশ ছেড়ে পালানো!’ অভিষেকের কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে বিস্ফোরণ ঋতব্রতের

চোখের চিকিৎসার অজুহাতে বিদেশে গিয়ে কি আদতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের এই অবস্থানের পরেই সুর চড়ান ঋতব্রত।

কূটনৈতিক পাসপোর্টের অপব্যবহার ও ‘মালিয়া’ তত্ত্ব

একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রত অভিযোগ করেন, অভিষেক তাঁর লাল রঙের বিশেষ কূটনৈতিক পাসপোর্টের (Diplomatic Passport) সুযোগ নিয়ে দেশ থেকে চম্পট দেওয়ার মতলব করছেন। সাধারণ নীল পাসপোর্টের চেয়ে এই বিশেষ পাসপোর্টে বহু দেশে ভিসা ছাড়া যাতায়াত এবং বাড়তি অনাক্রম্যতা (Immunity) পাওয়া যায়।

পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) নেই—এমন কোনো দেশে গিয়ে নিজের পাসপোর্ট জমা দিয়ে অভিষেক রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চাইতে পারেন। এতেই পরিষ্কার যে, তাঁর আর দেশে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই এবং এটি একটি বড়সড় কেলেঙ্কারির রূপ নিতে চলেছে।

সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালে ভিড়তে ভয় কেন?

রাজ্যের নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থা এড়িয়ে বারবার কেন অভিষেক বিদেশে দৌড়াচ্ছেন, তা নিয়েও সোচ্চার হন ঋতব্রত। তিনি মনে করিয়ে দেন, পূর্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল অভিষেকের বাড়ির কাছের সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ (SSKM) গিয়ে মেডিকেল বোর্ডের মুখোমুখি হতে। কিন্তু তা না করে অভিষেক সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে ছোটেন।

বিরোধী দলনেতার খোঁচা— সরকারি বোর্ডের অধীনে থাকলে নিজের পছন্দের বেসরকারি চিকিৎসকদের রাখা সম্ভব নয় বলেই কি এসএসকেএমে যেতে ভয় পাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ? একই সাথে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষকে ফেলে বারবার বিদেশে চিকিৎসা করানোর এই প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি জানান, অভিষেকের অতীতের চিকিৎসার খরচ ব্যক্তিগত না দলের তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল, সেই সত্যিও একদিন সামনে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *