‘৫ বছরেও মেটে না নির্বাচনী মামলা!’ হাইকোর্টে বিস্ফোরক কল্যাণ, তলব রিপোর্ট

‘৫ বছরেও মেটে না নির্বাচনী মামলা!’ হাইকোর্টে বিস্ফোরক কল্যাণ, তলব রিপোর্ট

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া হাইপ্রোফাইল মামলায় আবারও বিলম্ব। আদালতের নির্দেশিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মামলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের হাতে পৌঁছায়নি। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়টি সামনে আসতেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক। যথাসময়ে কেন নথি পাঠানো হলো না, সে বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

ভবানীপুর উপনির্বাচনের গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এজলাসে দাঁড়িয়ে কল্যাণবাবু মন্তব্য করেন, “কলকাতা হাইকোর্টের তো অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নির্বাচনী মামলার নিষ্পত্তি হতে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়!”

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জয়দীপ কর অবশ্য মমতার আইনজীবীর এই যুক্তি মেনে নেননি। তিনি সওয়াল করে জানান, আদালতের আগের নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট ইভিএম (EVM) এবং মামলার সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে এই মামলা আটকে থাকা বা অযথা দেরি হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা নথির কপি একে অপরের হাতে তুলে দিতে হবে এবং সে বিষয়ে আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি পক্ষ প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে পেল কি না, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দিয়েছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *