শুভেন্দুকে টার্গেট করে হানিট্র্যাপের ছক! জইশ জঙ্গি হামিমের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, জোরদার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা

শুভেন্দুকে টার্গেট করে হানিট্র্যাপের ছক! জইশ জঙ্গি হামিমের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, জোরদার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘জইশ-ই-মহম্মদ’! মুখ্যমন্ত্রীর চিনার পার্কের বাসভবন থেকে শুরু করে তাঁর যাতায়াতের পথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রেকি চালিয়েছিল জইশ-ই-মহম্মদ-এর সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডল। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জালে তুলতে প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহারেরও ছক ছিল তার। স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর টানা জেরায় উঠে এসেছে এই বিস্ফোরক তথ্য।

রেকি ও নবান্নে নজরদারি: STF সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হয় হামিম মণ্ডল এবং তার দুই সহযোগী অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিনহা। জেরায় প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ সামনে আনতেই রেকি চালানোর কথা স্বীকার করে হামিম। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিনার পার্ক এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে দীর্ঘ সময় নজরদারি চালাতে সে ভাড়াবাড়ির সন্ধানও করছিল। এছাড়া, রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ এলাকা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন জনসভাতেও সে নজরদারি চালিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অর্পিতাকে দিয়ে ‘হানিট্র্যাপ’ ও পাক-যোগ: তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে—ধৃত অর্পিতা সরকারকে ‘হানিট্র্যাপ’ অপারেটিভ হিসেবে ব্যবহার করার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেছিল হামিম। অর্পিতার মূল কাজ ছিল প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI এবং পাক-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার: রাজ্যে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করাই ছিল এই মডিউলটির মূল উদ্দেশ্য। এই তথ্য সামনে আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অভূতপূর্বভাবে জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে নবান্ন সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল লেনদেন ও কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখছে STF। এই ষড়যন্ত্রে স্থানীয় কোনো ‘স্লিপার সেল’ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *