“রয়্যালটির টাকাও আটকে দিল বিজেপি!” — বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা: কোনোদিন সাংসদ বা মুখ্যমন্ত্রীর বেতন এবং পেনশন গ্রহণ করেননি; চলেন কেবল নিজের লেখা বইয়ের রয়্যালটির উপার্জনে— বহুবার এই দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই বইয়ের রয়্যালটির টাকাও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তিনি। এর পেছনে সরাসরি বিজেপির ‘রাজনৈতিক খেলা’ ও প্রভাব কাজ করছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবন থেকে করা এক ফেসবুক লাইভে কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবারের কলকাতা বইমেলায় তাঁর লেখা একাধিক বই বিপুল পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রাপ্য রয়্যালটি এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “আমি আজ পর্যন্ত সরকার থেকে এক পয়সা বেতন নিইনি, পেনশনও নিইনি। নিজের বইয়ের রয়্যালটিতেই আমার ব্যক্তিগত খরচ চলে। কিন্তু এ বছর সেই টাকাও পাইনি। বিজেপির ভয়েই নিশ্চয়ই সবাই মুখ বন্ধ করে বসে আছে। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো বড় চক্রান্ত রয়েছে।”
লাইভ ভিডিওতে কেবল রয়্যালটি আটকে দেওয়ার বিষয়ই নয়, অন্যান্য একাধিক ইস্যুতেও বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী:
- দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূলের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
- বিদেশি অনুদান ও আরএসএস প্রসঙ্গ: কেন্দ্র সরকারের নতুন বিদেশি অনুদান (Foreign Funding) নীতি নিয়ে সরব হয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, নিবন্ধিত (Registration) না থাকা সত্ত্বেও আরএসএস কীভাবে বিদেশে থেকে টাকা পাচ্ছে? অন্যদিকে বিভিন্ন খ্রিষ্টান দাতব্য সংস্থার অনুদান আটকে রাখা হচ্ছে।
- জনগণনা ও SIR আতঙ্ক: আগামী জনগণনা প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলকে যুক্ত না করায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনার নামে কি নতুন করে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) চালিয়ে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হবে?— প্রশ্ন তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
- রামমন্দির ও রাজনৈতিক বিভাজন: রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের ভেতরে কৃত্রিম ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ তৈরি করে বিভাজন সৃষ্টি করার পেছনে বিজেপির কলকাঠি নাড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশ বা রাজ্যে কে ক্ষমতায় থাকবে আর কারা বিরোধী আসনে বসবে— তা বিজেপি এককভাবে ঠিক করতে পারে না। সাধারণ মানুষ সবই প্রত্যক্ষ করছে এবং সময়মতো এর যোগ্য জবাব দেবে।