হাওড়ায় লুকিয়ে বহু ‘হামিম-আদিত্য’! পাকিস্তান কানেকশন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি জঙ্গি-নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

হাওড়া: বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের সহযোগী আদিত্য সিংকে রবিবার রাতে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। গোয়েন্দাদের দাবি, আদিত্যই শুধু নয়, উত্তর হাওড়ায় এমন আরও অনেকেই রয়েছে যাদের সঙ্গে বিদেশি চক্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এদের ওপর ইতিমধ্যেই কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। উল্লেখ্য, গোয়েন্দা সূত্রে খবর— মন্ত্রী উমেশ রাই নিজেও এই জঙ্গি চক্রের নিশানায় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বর্ধমান থেকে হামিম এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার পুলিশের জালে ধরা পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, দু’জনেই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির দলের সদস্য। তারা ‘হানিট্র্যাপ’-এর ফাঁদ পেতে মন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলেকে অপহরণের ছক কষেছিল। এই বিষয়ে মুখ খুলে মন্ত্রী বলেন, “আমি পদে থেকে অনেক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি, তাই হয়তো আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে ফোন করে আমার কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসার পরই আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাই।”
তদন্তে জানা গেছে, হামিম একসময় হাওড়ার পিলখানায় থাকত, যা আদিত্যের বাড়ির বেশ কাছাকাছি। সেখান থেকেই আদিত্য মন্ত্রী ও তাঁর ছেলের নানা তথ্য এবং ছবি হামিমকে পাচার করত। হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যের খোঁজ মেলে।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী উমেশ রাই জানান, আদিত্য একজন সাধারণ কলেজছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। টাকার বিনিময়ে এরা দেশের এবং মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষা বিকিয়ে দিতেও পিছপা হচ্ছে না। বিদেশি যোগ থাকা এই চক্রটিকে দ্রুত পাকড়াও করা গেলে বিপুল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।