‘শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলব, ওসির ভুঁড়ি ফাটাব!’ টালা ব্রিজের লাইটপোস্টে উঠে যুবকের চরম তাণ্ডব

কলকাতা: ব্যস্ত বিকেলে উত্তর কলকাতার টালা সেতুতে হুলুস্থুল কাণ্ড! মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎই এক যুবককে দেখা যায় টালা ব্রিজের একটি উঁচু ল্যাম্পপোস্টে তরতরিয়ে উঠে পড়তে। শুধু উপরে ওঠাই নয়, সেখানে বসে একের পর এক অত্যন্ত বিপজ্জনক কসরত (স্টান্ট) দেখাতে থাকেন তিনি। সেখান থেকেই চিৎকার করে দাবি জানাতে থাকেন— “আমি শুভেন্দুবাবুর (শুভেন্দু অধিকারী) সঙ্গে কথা বলতে চাই!”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ল্যাম্পপোস্টে ওঠার পর যুবকটি নিজের জামা খুলে সেটিতে বেঁধে একদম চূড়ায় গিয়ে বসেন। পকেট থেকে ফোন বের করে নিচের পথচলতি মানুষকে কিছু ভিডিও দেখানোর চেষ্টা করেন এবং চারপাশের দৃশ্য শুট করতে থাকেন। স্তম্ভের রড ধরে ঝুলতে ঝুলতে স্থানীয় পুলিশকে নিশানা করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ওসির ভুঁড়ি ফাটিয়ে দেব!”
যুবকের এই প্রাণঘাতী কীর্তি দেখতে ব্রিজে মুহূর্তের মধ্যে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। শ্যামবাজার থেকে চিড়িয়ামোড়গামী লেনে একের পর এক গাড়ি থমকে দাঁড়ায়। মারাত্মক যানজটে চূড়ান্ত ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। স্থানীয় মানুষ নেমে আসার অনুরোধ করলেও তিনি কারও কথা শোনেননি।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ল্যাম্পপোস্টের মাথায় বসে থাকার পর, অবশেষে পুরসভার গাছ ছাঁটার কাজে ব্যবহৃত একটি হাইড্রোলিক ক্রেন এনে চালকের দক্ষতায় যুবকটিকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
যুবকটি কি মানসিক ভারসাম্যহীন, নাকি এই কাণ্ড ঘটানোর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক উস্কানি ছিল—তা জানতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।