‘৪৮ ঘণ্টায় শায়েস্তা করার হুমকি, পরেই যুদ্ধবিরতির ভিক্ষা!’— ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ভেতরের গল্প ফাস করলেন সিডিএস

২০২৫ সালের ১০ মে—ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ তখন তুঙ্গে। পাকিস্তানের এক-এক করে সামরিক ও জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে চলেছে ভারতীয় সেনা। ঠিক সেই মুহূর্তে হটলাইনের মাধ্যমে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতি চেয়ে কার্যত হাতজোড় করে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ভারতের তৎকালীন ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান সেই নাটকীয় মোড়ের ভেতরের তথ্য প্রকাশ করেছেন।
জেনারেল চৌহান জানান, ৯ মে পাকিস্তান হুংকার দিয়েছিল যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা ভারতকে শায়েস্তা করবে। কিন্তু ভারতের পাল্টা বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে পড়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মাথায়, ১০ মে সকাল ৯:৩০-এ তারা যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের কাছে ফোন করে! তবে ভারত সাথে সাথে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি; দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করার পরই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়।
ভারতের কড়া জবাব ও ক্ষয়ক্ষতি
পাহালগাঁওয়ে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারত জইশ ও লস্করের ৯টি ঘাঁটিতে নির্ভুল আক্রমণ চালায়। পাকিস্তান এরপর সীমান্ত পার থেকে ড্রোন ও মিসাইল হামলার ব্যর্থ চেষ্টা করলে, ভারত আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৯ মে রাত থেকে ১০ মে দুপুর পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ও বিমানঘাঁটিতে একনাগাড়ে হামলা চালায়। রাওয়ালপিন্ডির নূর খান, রহিম ইয়ার খান ও ভোলারি বিমানঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, সেখানে এখনও মেরামতের কাজ চলছে।
জেনারেল চৌহানের মতে, পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল—সংঘাত আর কয়েক দিন টানলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। ভারতের এই সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান পুরো বিশ্বকে বার্তা দেয় যে, পাকিস্তানের কোনো সেনাঘাঁটিই আর ভারতের সামরিক নাগালের বাইরে নয়।