ভারতে কি তবে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক? মোদীর ভিডিও বিতর্কে মেটার ওপর কেন্দ্র ও সংসদীয় কমিটির চরম চাপ!

ভারতে কি তবে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক? মোদীর ভিডিও বিতর্কে মেটার ওপর কেন্দ্র ও সংসদীয় কমিটির চরম চাপ!

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মোদি সরকার ও প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘মেটা’ (Meta)-র টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। একই সাথে ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও হেনস্থামূলক (CSAM) কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও মেটার কাছে জবাবদিহি চাইতে বুধবার কেন্দ্র ও মেটা কর্তাদের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কী আলোচনা হলো? তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণণ এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই বৈঠকে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “ভারতে ব্যবসা করতে হলে ভারতীয় আইন মেনেই চলতে হবে।”

মেটার প্রতিনিধিরা জানান, একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) কারণেই ভুলবশত প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিওটি প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। পরে সেটি পুনর্স্থাপন করা হয় এবং মেটার তরফে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।

তবে মেটার এই সাফাইতে মোটেও সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের তরফে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়— কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা এত দ্রুত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্লক হয়ে গেল, অথচ প্ল্যাটফর্মে ভেসে থাকা অন্যান্য আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দীর্ঘ দিন ধরে সরাতে সময় নেয় মেটা?

সংসদীয় কমিটির ৩ দিনের ডেডলাইন ও ‘সেফ হারবার’ ঝুঁকি: তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি (যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে) মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৩ দিনের ডেডলাইন দিয়েছে।

কমিটি সতর্ক করে জানিয়েছে, মেটার তরফে সন্তোষজনক উত্তর না মিললে ভারতীয় আইন (IT Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারার অধীনে প্রাপ্ত ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbour) সুরক্ষা বাতিল করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা রদ হলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা যে কোনো বেআইনি কনটেন্টের জন্য ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামকে সরাসরি আইনি ও অপরাধমূলক দায়ের মুখে পড়তে হবে, যা ভারতে তাদের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

ইনস্টাগ্রামে শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওর পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে শিশু নির্যাতনমূলক পোস্ট এবং এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিরুদ্ধেও মেটাকে জবাবদিহির মুখে ফেলা হয়। যদিও জুকারবার্গ শিশুদের সংক্রান্ত ইস্যুতে ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও উধাও সংক্রান্ত প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো সদর্থক উত্তর এখনও মেলেনি।

বৃহস্পতিবার মেটার টেকনিক্যাল ও অ্যালগরিদম টিমকে কেন্দ্র ফের তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *