২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল স্কুলের ছাত্রদের রক্ত! দুর্গাপুরের ঘটনায় তোলপাড়
দুর্গাপুর: টাকার টোপ দিয়ে স্কুলের নাবালক ছাত্রদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে দুর্গাপুরে। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রদের হাতে সামান্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা গুঁজে দিয়ে এবং আধার কার্ডে বয়স বাড়িয়ে ১৮ বছর দেখিয়ে এই রক্ত সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অন্য বন্ধুদের নিয়ে এলে ১০০ টাকা কমিশন দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হতো। দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের একটি নামকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের তৎপরতায় এই চক্রের তথ্য ফাঁস হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেবযানী বোস জানান, তাঁর স্কুলের কিছু ছাত্র একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিচ্ছে বলে খবর পান। এরপর শনিবার অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আসল ঘটনা সামনে আসে। এক ছাত্রের ব্যাগ থেকে হাসপাতাল প্রদত্ত রক্তদানের সংশাপত্র উদ্ধার হয়, যেখানে তার বয়স ১৮ বছরের বেশি দেখানো ছিল।
অভিযোগের তির দুর্গাপুরের এক নামকরা বেসরকারি হাসপাতালের দিকে। প্রধান শিক্ষিকার প্রশ্ন, “এত বড় হাসপাতাল অথচ আধার কার্ডের বয়স যাচাই না করেই কীভাবে রক্ত নিল?” যদিও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার দেবাশিস ঘোষের দাবি, নথিতে বয়স ১৮ বছর লেখা ছিল। আধার কার্ড জালিয়াতি করে কেউ বয়স বাড়ালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তা ধরা কঠিন।
বিষয়টি সামনে আসতেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক মহম্মদ ইউনুস এবং পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অন্য দিকে, রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রলোভন দেখিয়ে রক্ত নেওয়ার মতো অপরাধমূলক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। উৎসবের মরশুমে কর্মীদের কথা ভেবে সরকার কিছুটা নমনীয় থাকলেও, নিয়ম না মানলে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।