গোয়া ধর্ষণ মামলা: তেহলকা প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপালের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

২০১৩ সালের আলোড়ন সৃষ্টিকারী গোয়া ধর্ষণ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল বম্বে হাইকোর্ট। অনুসন্ধানমূলক পত্রিকা ‘তেহলকা’-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ সাংবাদিক তরুণ তেজপালকে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে গোয়ার একটি নিম্ন (ট্রায়াল) আদালত তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নীলা গোখেল ও বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের আগের রায় সম্পূর্ণ খারিজ করে তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত ও সাজা ঘোষণা করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আলোড়ন
২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ার বাম্বোলিমের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ‘তেহলকা’ ম্যাগাজিনের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযোগ ওঠে, অনুষ্ঠানের ফাঁকে হোটেলের লিফটের ভিতরে এক তরুণী সহকর্মীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করেন তরুণ তেজপাল। এই ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার পর ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর তেজপালকে গ্রেফতার করা হলেও প্রায় এক বছর পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। ২০১৭ সালে গোয়ার সেশনস কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তেজপালের আকুতি
এদিন বম্বে হাইকোর্টে সাজা ঘোষণার সময় ৬২ বছর বয়সী তরুণ তেজপাল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার বয়স ৬২ বছর। আমার স্ত্রী ও পরিবার রয়েছে। আমি নিজেকে এই পুরো পরিস্থিতির শিকার বলে মনে করি। এর বেশি আমার কিছু বলার নেই, তবে আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করছি। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করব।”
অন্যদিকে, তেজপালের আইনজীবী আবাদ পণ্ডা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য সাজা কার্যকরে ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশের আবেদন জানান। তবে আদালত ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ বহাল রেখেছে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)-এর দ্বারস্থ হয়েছেন তরুণ তেজপাল।