‘বাংলার বাড়ি’ বদলে নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’! ১০ লক্ষ পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়ে নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

‘বাংলার বাড়ি’ বদলে নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’! ১০ লক্ষ পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়ে নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

কলকাতা: রাজ্যে সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আবাসন প্রকল্প নিয়ে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পাকাপাকিভাবে পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন নামাঙ্কিত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১০.২০ লক্ষ সুবিধাভোগী পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী।

টাকার অংক ও যোগ্যতার নতুন নিয়ম: নবান্নের অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬০ হাজার টাকা করে মোট ৬১২২.২৭ কোটি টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আগে ‘পিসি’ বা ‘তৃণমূল’ দিয়েছে বলে প্রচার করা হতো, আমরা সেই সংস্কৃতি বন্ধ করছি। কোনো দল, ধর্ম বা সম্প্রদায় দেখে নয়—কেবলমাত্র যিনি প্রকৃত যোগ্য, তিনিই আবাসের টাকা পাবেন।”

তিনি আরও জানান, মোট ৩০ লক্ষ তালিকাভুক্ত উপভোক্তার মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ লক্ষ পরিবার দুটি কিস্তির টাকাই পেয়ে গিয়েছেন। বাকি ১৮ লক্ষের মধ্যে আজ ১০.২০ লক্ষ পরিবারকে টাকা দেওয়া হলো। বাকিদের নাম যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলছে এবং রিপোর্ট আসার পরপরই টাকা পেয়ে যাবেন তারা।

অযোগ্যদের তালিকা ছাঁটাই ও টাকা উদ্ধারের নির্দেশ: পুনর্যাচাইয়ের ফলে জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু ‘অযোগ্য’ ব্যক্তির নাম যুক্ত ছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পুনর্যাচাইয়ের পর সাড়ে ১২ হাজার অযোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সময় আরও ৫৭ হাজার অযোগ্য ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আসে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, অযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে বেআইনিভাবে নেওয়া টাকা ফেরত নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই প্রায় ১,০০০ জনের থেকে টাকা উদ্ধার করেছে রাজ্য।

কেন এই নাম পরিবর্তন? উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্তরে দরিদ্রদের পাকা বাড়ি দেওয়ার এই প্রকল্পের মূল নাম ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’। কিন্তু পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই নামে আপত্তি জানিয়ে রাজ্যের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং হিসেবে ‘বাংলার বাড়ি’ নাম দেন, যা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন শুরু হয়। এবার রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের অধীনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মূল ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ নাম নির্ধারণ করা হলো।

ভবিষ্যতের আশ্বাস ও কেন্দ্রের সবুজ সংকেত: সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানান, তৃণমূল জমানার ভুয়ো নামগুলো বাদ দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়া হয়েছে। আগামী দুর্গোৎসব মেটার পরপরই আরও কয়েক লক্ষ যোগ্য পরিবার প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে যাবেন। সেই সাথে তিনি যোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে—রাজ্যে যত উপযুক্ত ও যোগ্য পরিবার আবেদন করবে, তাদের সবার বাড়ি তৈরির জন্যই প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *