বিকল্প ছাড়াই ১২ ব্লাড ব্যাংকের শিবির বন্ধের ‘ফতোয়া’: রক্তসংকটে হাহাকার, ঝুঁকিতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জীবন!

বিকল্প ছাড়াই ১২ ব্লাড ব্যাংকের শিবির বন্ধের ‘ফতোয়া’: রক্তসংকটে হাহাকার, ঝুঁকিতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জীবন!

কলকাতা: ভিন রাজ্যে রক্ত বিক্রি ও উপহারের বিনিময়ে রক্তদানের মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগে ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের (ব্লাড সেন্টার) বাইরের রক্তদান শিবির করার অনুমতি বাতিল করেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। তবে এই পদক্ষেপের ফলে তীব্র বিপাকে পড়েছে শত শত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু ও কিশোরের পরিবার। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জীবন-মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

বছরের পর বছর ধরে পাড়া ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সংগৃহীত রক্তের ওপর নির্ভর করে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকগুলি থেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে রক্ত পেয়ে আসছিল এই শিশুরা। অভিযোগ উঠেছে, শিবির বন্ধের আগে স্বাস্থ্যদপ্তর বা ব্লাড সেফটি শাখা আক্রান্ত রোগীদের তালিকা তৈরি করে জেলা ও কলকাতার সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলিতে রক্ত পাওয়ার কোনো আগাম পরিকাঠামো গড়ে তোলেনি।

থ্যালাসেমিক গার্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা জয়ন্ত সোম ও অন্যান্য অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ব্লাড ব্যাংকগুলিতে যে পরিমাণ রক্তের স্টক আছে, তা দিয়ে বড়জোর আর এক-দু’দিন চলতে পারে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ‘ফেনোটাইপ ম্যাচিং’ সহ নানা আনুষঙ্গিক বিষয় জড়িত থাকায় হুট করে যেকোনো সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত সমাধান না হলে সন্তানকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া এবং রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিভাবকরা।

অন্যদিকে, রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের দাবি, আতঙ্কিত পরিবারের ফোন আসছে প্রতিনিয়ত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ধরনের সিদ্ধান্ত রোগীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বদলে সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “এগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য আলাদা ইউনিট রয়েছে। সেখানে গেলে কারও কোনো সমস্যা হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *