ভেজা চুলে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? আলিয়া ভাটের হেয়ার স্টাইলিস্টের চমকপ্রদ রেটিং!

ভেজা চুলে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? আলিয়া ভাটের হেয়ার স্টাইলিস্টের চমকপ্রদ রেটিং!

সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ঘরের প্রবীণদের কাছ থেকে চুলের যত্ন নিয়ে নানা ধরনের টিপস আমরা প্রতিদিন পাই। কিন্তু সব পরামর্শই কি চুলের জন্য ভালো? দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে অজান্তেই চুল রুক্ষ হওয়া, ঝরে পড়া কিংবা স্ক্যাল্পের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বলিউড তারকা আলিয়া ভাটসহ বহু তারকাদের জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুর সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে চুলের পরিচর্যা সম্পর্কিত কিছু বহুল প্রচলিত অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছেন। নিজের পেশাদার অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি ১০-এর স্কেলে নম্বর দিয়ে জানিয়েছেন— কোন অভ্যাস চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো, আর কোনটা ভুলেও করা উচিত নয়।

১. ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো (স্কোর: ১/১০)

রাতে ভেজা চুলে ঘুমানোর অভ্যাসকে প্রায় বিপজ্জনক বলেই মনে করেন অমিত ঠাকুর। তাঁর মতে, ভেজা স্ক্যাল্প ছত্রাক ও ক্ষতিকর জীবাণু বংশবৃদ্ধির আদর্শ জায়গা। এর ফলে মাথায় খুশকি, চুলকানি ও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

২. ভেজা চুলে চিরুনি দেওয়া (স্কোর: ০/১০)

ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া সবচেয়ে দুর্বল থাকে। এই সময় ব্রাশ বা চিরুনি চালালে চুল গোড়া থেকে ছিঁড়ে যায় এবং ভেঙে যায়। চুল কিছুটা শুকানোর পর বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে আলতোভাবে আঁচড়ানো উচিত।

৩. ডাবল শ্যাম্পু করা (স্কোর: ৯/১০)

যাঁরা চুলে নিয়মিত তেল দেন, স্ক্যাল্পে বেশি ঘাম বা ধুলো জমে, কিংবা স্টাইলিং প্রডাক্ট ব্যবহার করেন— তাঁদের জন্য দু’বার শ্যাম্পু করা খুব উপকারী। এতে স্ক্যাল্প গভীর থেকে পরিষ্কার হয়। তবে যাঁদের চুল বা স্ক্যাল্প শুষ্ক এবং খুব বেশি নোংরা হয় না, তাঁদের প্রতিদিন ডাবল শ্যাম্পু না করাই ভালো; এতে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।

৪. হালকা মাথায় তেল ম্যাসাজ (স্কোর: ৮/১০)

চুলে তেল দিয়ে আলতো হাতে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা খুব ভালো অভ্যাস। এতে মাথায় রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং আরাম পাওয়া যায়। তবে জোর জবরদস্তি বা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ঘষাঘষি করলে স্ক্যাল্প ও চুলের ক্ষতি হতে পারে।

৫. নিয়মিত ট্রিমিং ও সিল্কের বালিশের কভার (স্কোর: ১০/১০ এবং ৮/১০)

  • ট্রিমিং (১০/১০): অমিত ঠাকুরের বিচারে চুলের ডগা নিয়মিত ট্রিম করা ১০০% জরুরি। এতে চুল দ্রুত না বাড়লেও, ডগা ফাটা সমস্যা ছড়ায় না এবং চুল দেখতে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগে।
  • সিল্কের বালিশের কভার (৮/১০): সুতির বালিশের চেয়ে সিল্কের কভারে চুলে ঘর্ষণ অনেক কম হয়। ফলে রাতে ঘুমানোর সময় চুল জট পাকায় না, ফ্রিজি ভাব কমে এবং চুল ভাঙা রোধ হয়।

চুল সুন্দর ও সুস্থ রাখতে অন্ধভাবে সব ঘরোয়া টোটকা না মেনে, বিশেষজ্ঞের এই বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক পরামর্শগুলো মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *