‘সংসদীয় দল নয়, মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা!’— শিবসেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

‘সংসদীয় দল নয়, মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা!’— শিবসেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

নয়াদিল্লি: কোনো রাজনৈতিক দলে ভাঙন ধরলে সংসদীয় বা পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নয়, বরং মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত— শিবসেনা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। তবে কেবল দলীয় সিদ্ধান্তই নয়, রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও উসকে দেওয়া হয়েছে প্রশ্ন। আদালতের স্পষ্ট জিজ্ঞাসা, “দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রাজনৈতিক দলের ভেতরেও কি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখা উচিত নয়?”

শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও প্রতীক-সংকটের প্রেক্ষাপটে। নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বে একনাথ শিন্ডে শিবিরকে আসল ‘শিবসেনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতীক ও নাম তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীও একইভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবিপত্র জমা দিয়েছে। ফলে, এই মামলার রায়ের দিকে নজর রাখছে ঋতব্রত শিবিরের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’ এবং এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া সাংসদরাও।

হিসাব-নিকাশের এই আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি অভিযোগ করেন, দলত্যাগ বর্তমানে সাংবিধানিক অপরাধ হলেও তা বীরত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, শিন্ডে শিবিরের বিধায়কদের বরখাস্তের আবেদন দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছিল বলেই ক্ষমতার সুযোগে অন্যরাও দল বদলে বাধ্য হন।

অন্যদিকে, শিন্ডে শিবিরের আইনজীবীরা কমিশন ও স্পিকারের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং সমস্ত আইনি তথ্য যাচাই করেই নির্বাচন কমিশন শিন্ডে শিবিরকে আসল শিবসেনার স্বীকৃতি দিয়েছিল। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাবের মাঝে দলীয় সংবিধানে হঠাৎ করে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ এবং দলত্যাগের সময়ের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখার ওপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *