মোদী-গৃহে ধামাকাদার ব্রেকফাস্ট বৈঠক! NCPI-NDA জল্পনার মাঝেই ১৯ সাংসদকে কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর?

মোদী-গৃহে ধামাকাদার ব্রেকফাস্ট বৈঠক! NCPI-NDA জল্পনার মাঝেই ১৯ সাংসদকে কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর?

নয়াদিল্লি: ‘ন্যাশনাল কংগ্রেস অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) কি খুব শিগগিরই ‘এনডিএ’ (NDA)-এর সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই শুক্রবার সকালে দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে এক বিশেষ ব্রেকফাস্ট বৈঠকের আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে এনডিএ ও শরিক দলের সাংসদদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি তৃণমূল ত্যাগ করা NCPI-এর ১৯ জন সাংসদ।

বৈঠকে নিজের লোকসভা কেন্দ্র এবং নিজ নিজ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করার স্পষ্ট বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্যগুলির অগ্রগতি হলেই তবে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।”

ধোঁয়াশা কাটিয়ে বৈঠকে মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ

শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একে একে হাজির হতে শুরু করেন সাংসদরা। বৈঠকে যোগ দেওয়ার পথে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ধরণের অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং বেশিরভাগ সাংসদই এতে অংশ নিচ্ছেন।

তবে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র জল্পনা, কারণ এর আগেই তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনা ও ধোঁয়াশা কাটিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গেই বৈঠকে যোগ দেন আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। একা দেব ছাড়া NCPI-এর মোট ১৯ জন সাংসদই এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদীয় দায়িত্ব ও দেশের ঐতিহ্য স্মরণ

বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানত উন্নয়ন, সংসদীয় দায়িত্ব পালন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এক সময় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা ছিল দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজ্য এবং ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু।” তিনি আরও যোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের এই উন্নয়নই বিশ্বের দরবারে এক শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও সমৃদ্ধ ভারতের নতুন পরিচয় তুলে ধরবে।

নতুন সাংসদদের কাজের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন মোদী:

  • নিয়মিত উপস্থিতি: সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকা এবং প্রতিটি বিতর্ক ও আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
  • দক্ষতা বৃদ্ধি: সংসদের লাইব্রেরি ও নথিপত্র ব্যবহার করে ভারতের সভ্যতা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং সংসদীয় ইতিহাস সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের সময়

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বর্তমান ভারতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন গোটা বিশ্বের নজর ভারতের দিকে। আন্তর্জাতিক মহল দেখতে চায় ভারত কীভাবে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। তাই এই নতুন অধ্যায়ে প্রতিটি সাংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বৈঠক শেষে NCPI সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী মূলত দেশ ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং সেই বার্তাই তাঁদের প্রদান করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *