আকাশে ‘রাফাল’ রাজত্ব: দুই শত্রুকে টেক্কা দিতে ভারত আনছে ২০০+ শক্তিশালী যুদ্ধবিমান!

সীমান্তের দুই প্রান্তে সম্ভাব্য শত্রুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এবং ভারতের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১১৪টি নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ফরাসি প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ডাসল্ট অ্যাভিয়েশন’ (Dassault Aviation) ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
সব পরিকল্পনা সফল হলে আগামী দিনে ভারতের হাতে থাকবে ২০০টিরও বেশি রাফাল ফাইটার জেট।
রাফালের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হিসাব
- বর্তমান বহর (৬২টি): ভারতীয় বিমান বাহিনীতে (IAF) বর্তমানে ৩৬টি রাফাল কর্মরত। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি ‘রাফাল-এম’ (Rafale-M) অর্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
- নতুন মেগা অর্ডার (১১৪টি): নতুন ১১৪টি ফাইটার জেট যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬-এ।
- নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য (৩১টি): নৌবাহিনী অতিরিক্ত আরও ৩১টি রাফাল-এম কেনার পরিকল্পনা করছে।
- সর্বমোট: সবকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতে মোট রাফালের সংখ্যা ২০০-র গণ্ডি পার করে যাবে।
কেন এই মেগা চুক্তি ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি?
১. দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের সঠিক জবাব (চীন ও পাকিস্তান): পাকিস্তানের হাতে থাকা ‘J-10C’ ও ‘F-16’ এবং চীনের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ‘J-20’, ‘J-35’ ও ‘J-16’ ফাইটার জেটের মোকাবিলায় ভারতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। দুই সীমান্তের আকাশেই আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এই নতুন বহর।
২. ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও স্বনির্ভরতা: ১১৪টি বিমানের মধ্যে ৯৪টি বিমান ভারতেই তৈরি করা হবে। ডাসল্ট অ্যাভিয়েশনের সাথে Safran, Thales এবং MBDA-এর মতো ফরাসি সংস্থাগুলি ভারতে প্রযুক্তি স্থানান্তরে সাহায্য করবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই বিমানগুলিতে ভারত নিজের তৈরি দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রসংস্থান যুক্ত করতে পারবে।
৩. ফাইটার স্কোয়াড্রনের ঘাটতি পূরণ: এই রাফাল চুক্তির পাশাপাশি ভারত স্বদেশী প্রযুক্তির তেজস (Mk-1A ও Mk-2), সুপার সুখোই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ‘AMCA’ প্রজেক্টের ওপর জোর দিচ্ছে, যা সেনার দীর্ঘমেয়াদী স্কোয়াড্রন ঘাটতি মেটাবে।
সারসংক্ষেপ: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০টির বেশি রাফালের এই সম্ভাব্য উপস্থিতি ভারতের সামরিক শক্তির ভারসাম্য অনেকটাই বাড়াবে এবং শত্রুপক্ষের যে কোনো ধরণের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ভেস্তে দিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে এক অনন্য জায়গায় দাঁড় করাবে।