“খাবার দেয় না, সারাদিন রিলস বানায়!” গৃহবধূর পচাগলা দেহ উদ্ধার, বিহার থেকে ধৃত স্বামী

রিলসে আসক্তি ও সাংসারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে গলা টিপে খুন স্বামীর! ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর কুমবলগড়ু এলাকায়। খুনের পর স্ত্রীর মুখ প্লাস্টিকে ঢেকে এবং দেহ চাদরে মুড়ে বিহারে পালিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি—অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ২৪ বছর বয়সি অভিযুক্ত যুবক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ মাস আগে পরিবারের আসাম্মতিতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ধীরজ কুমার ও রীমা কুমারী। বিয়ের পর তাঁরা বেঙ্গালুরুতে এসে থাকতে শুরু করেন। তবে ধীরজের দাবি, বেঙ্গালুরুতে আসার পর থেকেই রীমা তাঁর প্রতি দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সারাদিন ফোনে ইনস্টাগ্রাম রিলস তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন তিনি, এমনকী কাজ থেকে ফিরে এলেও ধীরজের জন্য খাবার রান্না করতেন না। এই সব বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই চরম অশান্তি হতো।
গত ২৫ জুলাই রাতে সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। কাজ থেকে ফিরে ধীরজ দেখেন তাঁর জন্য কোনো খাবার বানানো হয়নি। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রীমা কাঠের টুকরো দিয়ে ধীরজকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধীরজ ওড়না পেঁচিয়ে রীমাকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর দেহটি ঘরের ভেতর মুড়ে রেখে সোজা বিহারে নিজের পৈতৃক ভিটেয় পালিয়ে যায় সে।
গত ২৯ জুলাই ওই বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিককে জানান। মালিক এসে শৌচালয়ের কাছে রীমার পচাগলা দেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। কুমবলগড়ু থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং বিহার থেকে ধীরজকে গ্রেফতার করে। জেরা চলাকালীন অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।