ইএমআই খেলাপিতে বাজবে না হুমকি ফোন! ঋণগ্রহীতাদের রক্ষায় আরবিআই-এর ‘বুলডোজার’ নির্দেশিকা

ইএমআই খেলাপিতে বাজবে না হুমকি ফোন! ঋণগ্রহীতাদের রক্ষায় আরবিআই-এর ‘বুলডোজার’ নির্দেশিকা

ঋণখেলাপীদের হেনস্থা বন্ধে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI)। ইএমআই (EMI) দিতে সামান্য দেরি হলেই লোন রিকভারি এজেন্টদের গালিগালাজ, আত্মীয়-স্বজন বা অফিসে ফোন করে সম্মানহানি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ভারতে নতুন নয়। এই মানসিক অত্যাচারে বহু মানুষ চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এবার গ্রাহকদের সুরক্ষায় ব্যাংক ও রিকভারি এজেন্সিগুলির জন্য চরম হুঁশিয়ারি জারি করল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হলো—ঋণ আদায়ের নামে কোনোভাবেই গ্রাহকের আত্মসম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মৌলিক অধিকারে আঘাত হানা যাবে না।

রিকভারি এজেন্টদের জন্য যা যা ‘সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’:

  • হুমকি ও হেনস্থা: কোনো অবস্থাতেই গ্রাহককে গালিগালাজ, ব্যক্তিগত হেনস্থা বা হুমকি দেওয়া যাবে না।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল: ঋণগ্রহীতার ছবি, অডিও/ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • সম্মানহানি: গ্রাহক বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অসত্য বা আপত্তিকর তথ্য ছড়ানো যাবে না।

যোগাযোগের নতুন কড়া নিয়ম:

  • নির্দিষ্ট সময়: এজেন্টরা কেবল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই যোগাযোগ করতে পারবেন। এর বাইরে কথা বলতে হলে গ্রাহকের পূর্ব অনুমতি লাগবে।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে ছাড়: পরিবারে কারও মৃত্যু, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, বিয়ে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে রিকভারি সংক্রান্ত কোনো যোগাযোগ করা যাবে না।
  • সাক্ষাতের স্থান: এজেন্টের সঙ্গে কোথায় দেখা হবে, তা ঠিক করবেন ঋণগ্রহীতা নিজে। তিনি সাড়া না দিলে বা পরপর দু’বার অনুপস্থিত থাকলেই কেবল এজেন্টরা বাড়ি বা অফিসে যেতে পারবেন—তাও অন্তত একদিন আগে এজেন্টের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে অনুমতি নিতে হবে।

কল রেকর্ডিং ও ক্ষতিপূরণ:

  • রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক: রিকভারি সংক্রান্ত প্রতিটি কল রেকর্ড করতে হবে এবং তা কমপক্ষে ৬ মাস সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কথা শুরুর আগেই গ্রাহককে জানাতে হবে যে কলটি রেকর্ড হচ্ছে।
  • ব্যাংকের ওপর দায় ও জরিমানা: এজেন্ট নিয়ম ভাঙলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে। শুধু তাই নয়, এজেন্টের খারাপ আচরণের কারণে গ্রাহক আর্থিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া সব এজেন্টকে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স’ (IIBF) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *