‘এনকাউন্টার নয়, বিচার হোক আইনি পথেই’: বারুইপুর কাণ্ডে স্পষ্ট বার্তা জাতীয় মহিলা কমিশন প্রধানের

ধর্ষকদের ‘এনকাউন্টার’ করে মেরে ফেলার পক্ষে তিনি নন; বরং বিচার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট আইনি পথেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। শুক্রবার হাওড়ায় এক কর্মসূচিতে এসে বারুইপুরের সাম্প্রতিক ‘এনকাউন্টার’ ঘটনা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গত মাসে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত প্রভাত মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, অপরাধের পুনর্নির্মাণের (Crime Reconstruction) সময় অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালায়। ফলে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ, এবং তাতেই তার মৃত্যু হয়।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান বিজয়া রাহাতকর বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক। কোনো মেয়ের সঙ্গেই যেন এমনটা না ঘটে। তবে ন্যায়বিচার সবসময় সঠিক আইনি পথেই হওয়া উচিত। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল তা আমার বিস্তারিত জানা নেই, তবে আশা করি পুলিশ দায়িত্বশীলভাবেই তাদের কাজ করছে।”
শুক্রবার হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরের ‘পথের দাবি’ হলে একটি জনশুনানি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ২৪ জন আবেদনকারী কমিশনের কাছে নিজেদের অভিযোগ জানান। শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজয়া রাহাতকর আরজি কর কাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আরজি করের ঘটনা আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। নির্যাতিতার মা-বাবার বেদনা আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। কমিশন এই নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরবর্তীতে তাঁদের মতামত সিবিআইয়ের কাছেও তুলে ধরেছি।”