গৃহবধূ থেকে নদিয়া জেলা পরিষদের শীর্ষাসনে প্রণতি, এক অপরাজিত নেত্রীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

গৃহবধূ থেকে নদিয়া জেলা পরিষদের শীর্ষাসনে প্রণতি, এক অপরাজিত নেত্রীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

গৃহবধূ থেকে সোজা জেলা পরিষদের সভাধিপতি! নদিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিতে প্রণতি বিশ্বাস শুধু এক চেনা নাম নন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। কংগ্রেসের হয়ে পথচলা শুরু করে তৃণমূলে দায়িত্ব পালন, রাজনীতির অলিন্দ থেকে সাময়িক অন্তর্ধান এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো—তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন এক রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের গল্প।

রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও তৃণমূলে উত্থান

১৯৯৮ সালে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ আনন্দমোহন বিশ্বাসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখেন প্রণতি বিশ্বাস। ২০০৮ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং দক্ষিণপাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানের দায়িত্ব সামলান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তিনি হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির নারী, শিশু ও ত্রাণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে নিজের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার ছাপ রাখেন।

মতানৈক্য, রাজনীতি থেকে বিরতি ও বিজেপিতে নতুন ইনিংস

২০১৬ সালে কৃষ্ণগঞ্জের তৎকালীন বিধায়ক প্রয়াত সত্যজিৎ বিশ্বাসের সাথে মতানৈক্যের কারণে কিছুদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবন হয়তো সেখানেই শেষ। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেই নির্বাচনে পরাজয়ের সম্মুখীন হলেও দল তাঁকে হাঁসখালি ব্লকের সভাপতি এবং পরবর্তীতে জেলা সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়।

অনাস্থা ভোট ও জেলা পরিষদের শীর্ষাসনে বসা

২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০২৬ সালে নদিয়ার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মোড় আসে। গত ১৭ জুন নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলের ২৭ জন সদস্য। ৫২ আসনের জেলা পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬।

গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে তৃণমূল কোনো প্রার্থী না দেওয়ায়, বিজেপির ৬ জন এবং তৃণমূলের ১৫ জন সদস্যের সমর্থনে অলৌকিক জয় ছিনিয়ে নেন প্রণতি বিশ্বাস। নির্বাচিত হন নদিয়া জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি হিসেবে।

কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল, রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতি এবং অবশেষে বিজেপির হয়ে জেলা পরিষদের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া—প্রণতি বিশ্বাসের এই দীর্ঘ লড়াই প্রমাণ করে রাজনৈতিক ধৈর্য ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *