SIR বিতর্ক: নবান্নে ক্ষোভপ্রকাশ ঋতব্রতদের, দাবি না মানলে এবার হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি!

SIR বিতর্ক: নবান্নে ক্ষোভপ্রকাশ ঋতব্রতদের, দাবি না মানলে এবার হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি!

নবান্ন: রাজ্যজুড়ে বহুল আলোচিত এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক ও লাউডস্পিকার খুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ ক্রমেই চড়ছে। সম্প্রতি এই জোড়া ইস্যুতে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের তীব্র দাবির কথা স্পষ্ট জানান বিরোধী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

জেলায় জেলায় ‘আঞ্চলিক ট্রাইব্যুনাল’-এর দাবি

বিরোধীদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানানো হয়, জোকা এলাকায় মাত্র একটি আঞ্চলিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করায় চরম বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্তের সাধারণ মানুষ। কোচবিহার বা প্রত্যন্ত জেলাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে কলকাতায় এসে শুনানি বা নথিপত্র জমা দেওয়া কার্যত আসাম্ভব।

“সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে জেলায় জেলায় ও ব্লকে ব্লকে স্থানীয় ট্রাইব্যুনাল চালু করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা আরও অন্তত ৬ মাস বাড়াতে হবে। দাবি পূরণ না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।”

২০ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও আইনি লড়াই

ভোটার তালিকার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী নেতৃত্ব দাবি করে, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কোনো বেআইনি বা ভুয়ো নাম ভোটার তালিকায় থাকুক তা কাম্য নয়, কিন্তু ভুয়ো চিহ্নিত করতে গিয়ে যেন কোনো বৈধ ভারতীয় নাগরিক বাদ না যান।

সরকারি হিসেবে ৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করলেও, এখনও প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। এই বিশাল সংখ্যক বৈধ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

লাউডস্পিকার বিতর্ক ও আইনি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত

মসজিদ ও মন্দির থেকে সম্প্রতি পুলিশ কর্তৃক হাজার হাজার লাউডস্পিকার খুলে নেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জানানো হয়, ভারতীয় সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকার দিয়েছে। পরিবেশ বিধি মেনে নির্দিষ্ট সাউন্ড লিমিটের (৬৫ ডেসিবেল) মধ্যে থেকে মাইক ব্যবহার করলে তাতে কারোর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

পুরোনো একটি আইনি রায়ের প্রসঙ্গে টেনে বলা হয়, আগের আইনি রায়ের ক্ষেত্রে যে ত্রুটি বা ফাঁক থেকে গিয়েছিল, তার পূর্ণ দায় স্বীকার করে খুব শীঘ্রই ওই নির্দেশের পুনর্বিবেচনা (Review Petition) চেয়ে নতুন করে আদালতে আবেদন জানানো হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, নবান্নে বিরোধীদের এই বৈঠককে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক শিবির। দলের মুখপাত্রদের দাবি, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বিরোধী নেতারা নবান্নে এই ধরনের বৈঠকের নাটক করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *