মোদী-শুভেন্দুর বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা, অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দেব!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে ঘাটালের সাংসদ দেবকে দেখা না যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন তাঁর অবস্থান নিয়ে। অবশেষে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে সমাজমাধ্যমে নিজের অনুপস্থিতির আসল কারণ খোলসা করলেন দেব।
তিনি জানান, আগে থেকে নির্ধারিত শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণেই তিনি দুই বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তবে পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে এবং রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তিনি নিজের সাধ্যমতো কাজ চালিয়ে যাবেন।
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এনডিএ-র শরিক দলগুলির নবনির্বাচিত ও প্রথমবারের লোকসভা সাংসদদের নিয়ে একটি প্রাতরাশ সভার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে আসা ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই সেখানে উপস্থিত থাকলেও একমাত্র দেবই অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকেও তাঁকে পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। কিন্তু দেবের এই সাম্প্রতিক পোস্টের পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান।
অন্যদিকে, এই প্রাতরাশ বৈঠকে দেশের উন্নয়ন এবং সংসদের কাজকর্মে নতুনদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে বিরোধীদের লাগাতার হট্টগোল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অহেতুক বিশৃঙ্খলার জন্য নতুন সাংসদরা বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না। সংসদীয় বিতর্কে ভালো পারফর্ম করতে সাংসদদের গ্রন্থাগারের তথ্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে লোকসভা কেন্দ্রের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সমস্যা হলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এনডিএ-কে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ পরিবার’ হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গেও সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে গঠনমূলক রাজনীতি করার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।