‘নিট’ প্রশ্নফাঁসে এনটিএ-র ৩ কর্তা! সিবিআই চার্জশিটে তুলকালাম, কাঠগড়ায় ডিজিও

‘নিট’ প্রশ্নফাঁসে এনটিএ-র ৩ কর্তা! সিবিআই চার্জশিটে তুলকালাম, কাঠগড়ায় ডিজিও

কলকাতা: সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র চরম গাফিলতি ও ব্যবস্থার বড়সড় ত্রুটি প্রকাশ পেল সিবিআই তদন্তে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা প্রায় ২০ হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধু বাইরের দালালচক্র নয়, এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ নজরদারির অভাব এবং কর্তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতাই এই কেলেঙ্কারির মূল কারণ।

চার্জশিট অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এনটিএ-র প্যানেলে থাকা তিন জন বিষয়-বিশেষজ্ঞ— পি. ভি. কুলকার্নি (রসায়ন), মণীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা) ও মণীষা মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা)-সহ মোট ১৩ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। এছাড়াও মহারাষ্ট্রের দুটি প্রথম সারির কোচিং সেন্টারের কর্তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এনটিএ-র এই বিশেষজ্ঞরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কোচিং সেন্টারগুলিতে পাচার করতেন। পরীক্ষার আগে ক্লাসে লিখিত প্রশ্নের বদলে মুখে মুখে হুবহু প্রশ্ন ও উত্তর বলে দেওয়া হতো, যা ছাত্রছাত্রীরা খাতায় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে লিখে রাখত।

সিবিআই চার্জশিটে এনটিএ-র কাজকর্মের বেশ কিছু ভয়ানক গলদ তুলে ধরা হয়েছে:

  • সিসিটিভি-র অভাব: প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার ‘গোপন বিভাগে’ কোনো লাইভ সিসিটিভি মনিটরিং বা কন্ট্রোল রুম ছিল না। তাছাড়া ফুটেজ সংরক্ষণের মেয়াছিল মাত্র ২০-২৫ দিন, যার ফলে তদন্ত শুরুর আগেই বহু জরুরি সিসিটিভি ফুটেজ মুছে যায়।
  • নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ক্ষমতা: নিয়ম অনুসারে প্রশ্ন তৈরি, মডারেশন ও অনুবাদের কাজ আলাদা বিশেষজ্ঞদের করার কথা থাকলেও, এই কেসে একই বিশেষজ্ঞদের একাধিক ধাপে যুক্ত রাখা হয়। ফলে তাঁরা সহজেই চূড়ান্ত চারটি সেটের নাগাল পেয়ে যান।
  • ডিজি-র চরম উদাসীনতা: পরীক্ষার দিনই রাজস্থানের এক শিক্ষক আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি ‘গেস পেপার’ ই-মেইল করে এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিংকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ডিজি সেই মেইলের জবাব দিতে ৫ দিন সময় নেন। এই দীর্ঘসূত্রতা চক্রটিকে আড়াল হতে সাহায্য করেছিল বলে সিবিআইয়ের দাবি।

প্রশ্নফাঁসের জেরে সারা দেশে এ পর্যন্ত ২৩ জন নিট-পরীার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে জেন-জি (Gen Z)-র আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। সংসদেও বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সরব হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীও। তবে অভিযোগ ও সিবিআই চার্জশিটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাইতে গেলে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এনটিএ ডিজি অভিষেক সিং।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *