‘মৃত্যুকে সামনে দেখেছি…’! সৌদিতে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের পর দেশের মাটিতে চুমু, স্বস্তির অশ্রু ইজরায়েলে

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে হঠাৎই এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। ককপিটে হঠাৎ হামলা ও রক্তারক্তি কাণ্ড! ককপিটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের বাঁধনছাড়া ফ্রি-ফলে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী। তবে চালকদলের সাহসিকতা ও যাত্রীদের বীরত্বে এড়ানো গেছে বড় বিপর্যয়।
ককপিটে বীরত্ব ও আততায়ীকে কাবু বিমানের ভেতরের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আমলং ইটালি নামে এক যাত্রী বলেন, “ভয়ে অনেকে ককপিটের দিকে দৌড়ে যান। ক্রু সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিমানের দরজা ভাঙতে গিয়ে কয়েকজন আহতও হন। কিন্তু তাঁরা সত্যি সাহসী, ওঁরাই আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে যাত্রী ভিকা মেনেস জানান, ককপিটে ঢোকার পর হামলাকারী কো-পাইলটকে কাবু করতে তিনি ও অন্য সহযাত্রীরা হাতের কাছে যা পেয়েছিলেন—জিপ টাই, হেডফোনের তার—তাই দিয়ে আততায়ীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। এরপর মূল পাইলট বিমানের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
সৌদিতে জরুরি অবতরণ ও দেশের মাটিতে স্বস্তির কান্না ভয়াবহ এই ঘটনার পর সৌদি আরবে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখান থেকে যাত্রীরা যখন ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখন সেখানে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। হাতে জাতীয় পতাকা ও গান গেয়ে তাঁদের স্বাগত জানান পরিজনরা। বেঁচে ফেরার আনন্দে চোখে জল নিয়ে অনেক যাত্রীকেই দেশের মাটিতে উবু হয়ে চুমু খেতে দেখা যায়।
থাইল্যান্ডে ছুটি কাটিয়ে সপরিবারে ফিরে আসা আসাফ রেজওয়ান নামে এক যাত্রী বলেন, “সবকিছু যেন একটা থ্রিলার সিনেমার মতো লাগছিল। বিমান থেকে নেমে পোষ্য কুকুরটিকে জড়িয়ে ধরেও আতঙ্ক কাটছিল না।”