ভাঙড়ে ফের উত্তাপ: আরাবুলের দপ্তরে তোলপাড়, বিবাদে বিদ্ধ আইএসএফ!

ভাঙড়: পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে আরাবুল ইসলামকে সরানোর তোড়জোড় শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁর দপ্তরের বাইরে থাকা নামফলক (নেমপ্লেট) ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠল আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, দপ্তরের ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল তছনছ করারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙড়–২ পঞ্চায়েত সমিতির দোতলায় থাকা আরাবুলের দপ্তরের নামফলক উপড়ে ফেলে দেন কয়েকজন আইএসএফ কর্মী। ঘটনার পর আরাবুল পুলিশের দ্বারস্থ হলে, প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে নামফলকটি বসানো হয়।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকেই দায়ী করেছেন আরাবুল। তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে আরাবুল জানান, বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদকে জেতাতে তিনি বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং নিজের বাড়তেই দলের নির্বাচনী কার্যালয় করতে দিয়েছিলেন। অথচ এখন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগেই বারুইপুরের মহকুমা শাসকের কাছে আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় আইএসএফ। ৩০ সদস্যের পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের অধিকাংশ সদস্য ও আইএসএফের পাঁচ সদস্য ওই প্রস্তাবে সই করেন। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে লড়াই করে হেরে গিয়েছিলেন আরাবুল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের ভেতরে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও এই ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভগবানপুরে ভেস্তে গেল আইএসএফ-এর বোর্ড গঠনের ছক: অন্যদিকের ঘটনাপ্রবাহে, ভাঙড়-২ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড দখলের পরিকল্পনা করেও ধাক্কা খেল আইএসএফ। শেষ মুহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কায় এবং অশান্তির যুক্তি দেখিয়ে প্রশাসনের কাছে ভোট স্থগিতের আর্জি জানান বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সেই আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবারের নির্ধারিত প্রধান নির্বাচন স্থগিত রাখে ব্লক প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পঞ্চায়েত চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।