মহাসাগরের মেঘে ‘বার্স্ট মোড’-এ বর্ষা! বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে কি তবে অতি ভারী বৃষ্টি?

মহাসাগরের মেঘে ‘বার্স্ট মোড’-এ বর্ষা! বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে কি তবে অতি ভারী বৃষ্টি?

দক্ষিণবঙ্গে কি আবার স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে বর্ষার দাপট? আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপর অবস্থান করা ঘূর্ণাবর্তটি শনিবারই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সুসংগঠিত নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে।

এই নিম্নচাপ ঘনীভূত হলে দক্ষিণবঙ্গসহ পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

☁️ ভারত মহাসাগরে মেঘের বিশাল প্রাচীর!

স্যাটেলাইট ছবি (INSAT-3DS) বিশ্লেষণ করে আবহবিদরা জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে মাঝপথ পর্যন্ত বিস্তৃত ঘন বজ্রগর্ভ মেঘ জমে রয়েছে। এই মেঘের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার! সাধারণ ভাষায় একে শক্তিশালী বর্ষার পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হলেও, শুধু মেঘ বা জলীয় বাষ্প থাকলেই মুষলধারে বৃষ্টি হয় না—তাকে বৃষ্টিতে পরিণত করতে দরকার একটি শক্তিশালী ‘ট্রিগার’ বা নিম্নচাপ। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা নিম্নচাপটি সেই ট্রিগার বা ‘জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

🌐 ৩,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘের সারি

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও একটি বিরল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। মধ্য ভারত থেকে চীনের পূর্ব উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশালাকার মেঘের সারি বিস্তৃত রয়েছে। এর আগে এই ধরনের একটি মেঘের সারি প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে সাউথ কোরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

🌧️ ‘বার্স্ট মোড’-এ ঢুকবে বর্ষা?

বর্তমানে মধ্য ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বৃষ্টি হলেও তা মূলত স্থানীয় একাধিক ক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্তের ফলে হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে কোনো বড় সিস্টেম না থাকায় বৃষ্টির স্থায়িত্ব কম ছিল। কিন্তু এবার ভারত মহাসাগরের বিপুল জলীয় বাষ্প যদি এই নতুন নিম্নচাপটির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে বর্ষা পুরোপুরি ‘বার্স্ট মোড’ (Burst Mode) এ প্রবেশ করতে পারে।

বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার যে ১৬ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, তা এই নিম্নচাপের ধাক্কায় মিটে যাবে কি না, এখন সেদিকেই চোখ আবহবিদ ও সাধারণ মানুষের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *