অ্যাম্বুল্যান্সের খালাসি থেকে কোটিপতি নেতা! অবশেষে পুুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে

তোলাবাজি, আর্থিক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রভাবশালী নেতা সনৎ দে-কে। শনিবার ভোররাতে দত্তপুকুরে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে নৈহাটি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। অবশেষে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জালে ফেলা সম্ভব হলো এই বিতর্কিত প্রাক্তন বিধায়ককে।
অ্যাম্বুল্যান্সের খালাসি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য: স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, একসময় নিছক অ্যাম্বুল্যান্সের খালাসি হিসেবে কাজ করতেন সনৎ দে। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন তিনি। কেবল রাজনৈতিক সংঘর্ষই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জাল ওষুধের কালোবাজারির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
যেসব অভিযোগে অভিযান:
- রাজনৈতিক হিংসা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নৈহাটি এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা এবং তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
- তোলাবাজি ও দুর্নীতি: একাধিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর তোলাবাজি এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ।
- পুলিশি তল্লাশি: দিনকয়েক আগেই তাঁর নৈহাটির বাসভবনে পুলিশ তল্লাশি চালায়। তবে সেসময় তিনি পলাতক ছিলেন। রাজ্য রাজনীতিতে হাওয়া বদলের পর পুরানো সব অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হতেই সনতের বিরুদ্ধে ঘেরাটোপ শক্ত করে পুলিশ।
‘কোমরে দড়ি দিয়েও শাস্তি মিলবে না’: অর্জুন সিং সনৎ দে-র গ্রেপ্তারির পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “সনৎ দে সাধারণ মানুষের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে, নৈহাটির মানুষ তাকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না। তাকে শুধু কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালেই চলবে না, তার চেয়েও কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।” মন্ত্রীর দাবি, সনৎ দে অসাধু উপায়ে জাল ওষুধের ব্যবসাও চালাতেন।
আদালতে পেশ ও তদন্ত: পুলিশ জানিয়েছে, সনৎ দে-কে জেরা করে তোলাবাজি ও অপরাধ চক্রের আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই কাণ্ডে আর কোনো প্রভাবশালী জড়িত আছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শনিবারই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।