“২১ জুলাই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মাইক!”— ৬ বছর পর নবান্নে গোপন সত্য ফাঁস শুভেন্দুর

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মূল মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দলটিতে থাকাকালীন তিনি পরিবহন, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। যুব তৃণমূলের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁর ব্যাপক সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল। তবে ২০২০ সালের শেষে মমতার সাথে মতবিরোধের জেরে তৃণমূলের সব পদ ও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বর্তমানে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
সম্প্রতি নবান্নে এক অভূতপূর্ব ও নস্টালজিক পরিবেশের সাক্ষী থাকলেন সবাই। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৩ জন বিধায়ক বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ রায়ের মতো প্রবীণ তৃণমূল নেতারাও (যাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন)। বৈঠক শেষে পুরনো সহকর্মীদের দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি পুরনো মন্ত্রিসভার নানা ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে তাঁর তৃণমূল ছাড়ার কারণ নিয়ে। শুভেন্দু জানান, ২০১১ সালের ২১ জুলাইয়ের এক ঘটনার পর থেকেই তাঁর মোহভঙ্গ শুরু হয়। সেদিন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দুর দাবি, সেদিনই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে এই দলে আর থাকা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি দলে ‘ভাইপো রাজ’ কায়েম হওয়ার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দুর ঘর থেকে বেরিয়ে ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করেন যে, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের পর শুভেন্দুর মতো আন্তরিক মনোভাব তিনি খুব কম দেখেছেন এবং শুভেন্দুর এই আতিথেয়তা তাঁকে বিধান রায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। জানা গেছে, বৈঠকে আসা বিধায়কদের জন্য নবান্নে ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, কুকিজ এবং চা-কফির দারুণ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।