“৩ বছর পরেও কেন আটকে নারী সংরক্ষণ?” রিজিজুকে পাল্টা চাঁচাছোলা জবাব রাহুল গান্ধীর

“৩ বছর পরেও কেন আটকে নারী সংরক্ষণ?” রিজিজুকে পাল্টা চাঁচাছোলা জবাব রাহুল গান্ধীর

নারী ক্ষমতায়ন এবং নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

ঘটনার সূত্রপাত রাহুল গান্ধীর পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাহুল ভারতে নারীদের সামাজিক অবস্থান, স্বাধীনতা এবং তাঁদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাহুলকে উদ্দেশ্যে করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, “নারীদের বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আশা করি, এবার কংগ্রেস কোনো শর্ত ছাড়াই নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন জানাবে।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আর চুপ থাকেননি রাহুল গান্ধী। রিজিজুকে সরাসরি নিশানা করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। রাহুল বলেন, ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিক্রমে ও কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে এই বিলটি সংসদে পাশ হওয়া সত্ত্বেও গত তিন বছরে তা কেন কার্যকর করা হয়নি? পাশাপাশি, কেন এই বিলকে নতুন করে ‘ডিলিমিটেশন’-এর (সীমানা পুনর্নির্ধারণ) সঙ্গে জুড়ে বিলম্ব করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কোনো শর্ত ছাড়া পাশ হওয়া আইনটি অবিলম্বে চালুর দাবি জানান এই কংগ্রেস সাংসদ।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে নারী সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির দাবি—বর্তমান আসন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই অবিলম্বে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ চালু করা হোক। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের যুক্তি, রাজ্য বিধানসভা ও লোকসভায় সার্বিক আসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক উপায়ে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা বাস্তবায়ন করতে গেলে আগে ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

নিজের শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও সামাজিক কড়াকড়ির কারণে নারীদের শক্তিকে চেপে রাখা হয়েছে। নারীদের মন খুলে চিন্তা করা বা কাজ করার সুযোগ না দিলে কোনো দেশই এগোতে পারে না।” তিনি আরও জানান, ক্ষমতায়ন কেবল ব্যবসা বা রাজনীতির সাফল্য দিয়ে মাপা যায় না; নারীরা ঘরে এবং রাস্তায় কতটা নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করছেন, সেটাই দেশের প্রকৃত উন্নতির আসল মানদণ্ড।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *