নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন নিয়ে তুঙ্গে মোদী-রাহুল সংঘাত: ‘৩ বছর ধরে বিল আটকে কেন?’ প্রশ্ন কংগ্রেসের

নারী সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিটেশন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মোদী সরকার এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সংঘাত চরমে উঠল। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংহিত সংশোধনী বিল পাসে বিরোধীদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় জল ঢেলে দিয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক তর্ক।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীর একটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করে নারী সংরক্ষণ বিলে কংগ্রেসকে ‘বিনা শর্তে’ সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান। এর কড়া জবাবে রাহুল গান্ধী মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালেই কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে এই বিল সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল। রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “তিন বছর কেটে গেলেও আইনটি কেন কার্যকর করা হয়নি? আর এখন কেনই বা একে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে?” তিনি অবিলম্বে কোনও শর্ত ছাড়াই ২০২৩ সালের আইনটি চালুর দাবি জানান।
সংঘাতের মূল কারণ: ২০২৩ সালের ‘নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ ৩৩% নারী সংরক্ষণের কথা থাকলেও তা ২০৩৪ সালের আগে চালুর সম্ভাবনা ছিল না। তবে কেন্দ্র নতুন বিলের মাধ্যমে ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এটি চালু করতে চায়। আপত্তি উঠেছে এখানেই—এর জন্য লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, ২০১১ সালের তথ্যে ডিলিমিটেশন হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি বেশি সুবিধা পাবে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে পিছিয়ে পড়বে।
সংসদের মেয়াদ আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকায় সরকার সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী সরকারের সামনে দুটি শর্ত রেখেছেন—
- গত ২০ জুলাই ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি।
- রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।
সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে সংসদীয় অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে।