বালোচদের তীব্র রোষানলে শেষ পর্যন্ত কি সোনা-তামার খনি ছেড়ে পালাচ্ছে বেজিং!

বালোচিস্তানের সাইন্দাক খনি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিল চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সাইন্দাক মেটাল লিমিটেড। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে মাত্র এক মাসের মধ্যে ওই অঞ্চল থেকে কাজ গুটিয়ে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর আলটিমেটাম দিয়েছে তারা। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে বালোচ বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলায় এমনিতেই নাজেহাল অবস্থা পাক সেনার। এই পরিস্থিতিতে চিনের এমন হুঁশিয়ারিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কোটি কোটি টাকার চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) ভবিষ্যৎ প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী হাফিজ পাশা এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কায় বড় বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একে একে মুখ ফেরাচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার মরিয়া হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্যাকেজ চাইছে। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভুল নীতি ও অব্যবস্থার কারণে এই অর্থও দেশের মূল সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই সাইন্দাক খনিতে বিশাল পরিমাণ সোনা ও তামা মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বর্তমান অস্থিরতায় তা পুরোপুরি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বালোচ নাগরিকদের স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের তীব্রতার জেরে চিনা নাগরিকদের ওপর হামলা ক্রমেই বাড়ছে, যা ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। খনি অঞ্চল হাতছাড়া হলে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি যে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।