“অতীত ভুললে ভবিষ্যৎ নেই!” নবান্নে ৩২৫ ‘লোকতন্ত্র সেনানী’কে সম্মান জানাল রাজ্য সরকার

জরুরি অবস্থার দিনগুলিতে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে শামিল হওয়া বীর সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রবিবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ৩২৫ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানী’র হাতে তাম্রপদক তুলে দিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জরুরি অবস্থার স্মৃতি স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সে সময়ের অমানবিক অত্যাচার সহ্য করেও যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই আজকের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তৎকালীন জাতীয়তাবাদী ভাবনার সেই ধারাকে বর্তমান সরকার এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, লোকতন্ত্র সেনানী সংঘকে ভবিষ্যতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারকে আইন ও বিধানসভার নিয়মের মধ্যে থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, সংগ্রামীদের প্রদান করা অর্থ কোনো অনুদান বা ভাতা নয়, এটি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিনীত সম্মানিক।
এই মঞ্চ থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবর্ষ উদযাপনে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং মুখ্যসচিবের সদস্য-সচিবত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে, যার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ১৩ আগস্ট। কেবল মূর্তি স্থাপন বা ছুটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রামাণ্য নথি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে দেশভাগের যন্ত্রণা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ বাড়িতে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দেওয়া এবং কলকাতায় তেরঙ্গা যাত্রা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষার (‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’) নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তব্যের শেষে জোর দিয়ে বলা হয়— “অতীতকে ভুলে গেলে কোনো জাতির ভবিষ্যৎ কখনো উজ্জ্বল হতে পারে না।”