‘আপনার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন সোনার পদক!’ কমনওয়েলথ তারকাদের মোদী-স্তুতি, প্রশংসায় ভাসলেন লাভলিনা-মীরাবাই

২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সফল ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের নিজের বাসভবন (৭, লোক কল্যাণ মার্গ)-এ আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগেও অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। রবিবারের এই বর্ণাঢ্য সাক্ষাতের একটি ভিডিও সোমবার প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেশের অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্রীড়াবিদদের এই সাফল্য কেবল আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেনি, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মকেও খেলাধুলার প্রতি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি
ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় মোদী উল্লেখ করেন যে, গত ১২-১৩ বছর ধরে তিনি দেশের সফল মানুষদের নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছেন। বিগত এক দশকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে অ্যাথলিটদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের প্রশংসা করেন তিনি। মোদী বলেন, “স্কুলে গিয়ে খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার চেয়ে, ক্রীড়াবিদদের গলার পদক তরুণ সমাজকে অনেক বেশি উৎসাহিত করে।”
লাভলিনার দেশপ্রেম ও মীরাবাইয়ের আবেগঘন মুহূর্ত
অনুষ্ঠানে বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁইয়ের সাহসিকতার বিশেষ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাকে এক অনন্য দেশপ্রেমের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন মোদী।
অন্যদিকে, ভারোত্তোলক সাইখোম মীরাবাই চানুর পদক জয়ের পর অশ্রুসজল মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেদিন আপনার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু থেকে যেন এক একটি সোনার পদক ঝরে পড়ছিল।” জবাবে মীরাবাই জানান, সেই কান্না ছিল চার বছরের চোট-আঘাত, পারিবারিক সংগ্রাম এবং প্যারিস অলিম্পিক্সে পদক হারানোর বেদনার পর জাতীয় পতাকা উঁচুতে উঠতে দেখার আনন্দাশ্রু।
সাক্ষাৎ শেষে নীরজ চোপড়া, অস্মিতা দে, সাক্ষী চৌধরীদের মতো তারকা অ্যাথলিটদের আগামী দিনের শুভেচ্ছা জানান মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন— “জো খেলেগা, উয়ো খিলেগা।”