নবান্নে সপ্তম পে কমিশনের প্রথম বৈঠক! মিলল ওয়েবসাইট চালু ও বেতন বৃদ্ধির বড় ইঙ্গিত

কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করার পরেই প্রতিশ্রুতি মতো সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটিও। অবশেষে আজ, সোমবার নবান্নে সেই সপ্তম পে কমিশন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সূত্রের খবর, কমিশনের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে খুব শীঘ্রই চালু করা হচ্ছে একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট, যেখানে বেতন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি নবান্ন থেকে সপ্তম পে কমিশনের শর্তাবলী উল্লেখ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে রাজ্য় সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে:
- বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (Increment): বর্তমানে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির নিয়ম রয়েছে। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- কেন্দ্রের সঙ্গে সমতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের পে-স্কেলের সামঞ্জস্য আনার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে।
- ন্যূনতম বেতনের নতুন ভিত্তি: ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের জন্য পরিবার পিছু ৪ জনের বদলে ৫ জন সদস্যকে ভিত্তি ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টির মানদণ্ড দৈনিক ২,৭০০ ক্যালোরি থেকে বাড়িয়ে ৩,৪৯০ ক্যালোরি করা হয়েছে।
- ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা: বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা ও হোস্টেল ভর্তুকির মতো বিষয়গুলিতেও কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মহার্ঘ ভাতার (DA) ক্ষেত্রে ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’-এর সুপারিশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- অবসরকালীন সুবিধা: অবসরের ছুটির নগদীকরণ, ১১ বছরে কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধার এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়গুলিও কমিশনের বিবেচনাধীন।
সোমবারের প্রাথমিক বৈঠকে কমিশনের কাজের রূপরেখা তৈরির পাশাপাশি কর্মীদের সুবিধার্থে ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এখন দেখার, কমিশন চূড়ান্ত সুপারিশ কবে পেশ করে এবং সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়।