বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না, টোটোর চার্জারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের!

তমলুক: বাবাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে নিজের জীবনটাই বাজি রেখেছিল ১৩ বছরের রোহন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না—বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো সপ্তম শ্রেণির এই পড়ুয়াকে। শনিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের চকশ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহনের বাবা পেশায় একজন টোটো চালক। শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি টোটো নিয়ে বাড়ি ফিরে চার্জ বসাতে যান। সেই সময়েই অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। বাবাকে ছটফট করতে দেখে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ছুটে আসে রোহন। বাবাকে বাঁচাতে হাত বাড়ালেই মুহূর্তের মধ্যে সে নিজেই বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দু’জনকেই উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা রোহনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রোহনের বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা চকশ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়ায়। এত কম বয়সে রোহনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী ও পরিজনেরা। কীভাবে টোটোর চার্জিং পয়েন্টে এমন প্রাণঘাতী ত্রুটি দেখা দিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।