নয়ডায় পিজি থেকে ১৯ বছরের তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার: মদের আসর ঘিরে বচসার জেরে খুন?

নয়ডা: উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বারৌলা গ্রামের একটি পেয়িং গেস্ট (PG) থেকে আসামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পিজি-র দোতলার একটি বন্ধ ঘর থেকে নিহতের দেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দিয়েছে অভিযুক্ত যুবক।
মূল ঘটনাটি কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণীর নাম মেহক আহমেদ (১৯), যার বাড়ি আসামের ডিব্রুগড়ে। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে পরিবারকে কিছু না জানিয়েই প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি নয়ডায় চলে আসেন। সেখানে একটি পিজি-তে তাঁর বান্ধবী সঞ্জনার সঙ্গে থাকতেন।
অন্যদিকে, ওই পিজি-রই দোতলার একটি ঘরে থাকত বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা রমন। সে পেশায় বি.টেক ডিগ্রিধারী এবং পূর্বে একটি আইটি সংস্থায় কাজ করত। তবে স্থানীয়দের দাবি, রমন বেশ কিছুদিন ধরে বেকার ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্য উন্মোচন
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ৮ই আগস্ট রাতে মেহক ও তাঁর বান্ধবী সঞ্জনা লবিতে ছিলেন। সে সময় রমন তাঁর ঘরের বাইরে বসে মদের আসর জমায়। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি হয়।
পরের দিন, ৯ই আগস্ট সকালে সঞ্জনা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যান। ফিরে এসে মেহককে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি, কারণ মেহকের ফোনও বন্ধ পাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই পিজি-র অন্যান্য বাসিন্দারা তালাবন্ধ রমনের ঘর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ পেতে থাকেন। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা বাড়ির মালিক ও পুলিশকে খবর দেন।
বর্তমান অবস্থা
খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে মেহকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মদের আসর কেন্দ্রিক ওই বচসার জেরেই খুন করা হয়েছে তরুণীকে। পলাতক অভিযুক্ত রমনের সন্ধানে ইতিমধ্যেই জোর তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।