কর ও ব্যাংকিংয়ে বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র, রাজ্যসভায় পেশ নির্মলার জোড়া গুরুত্বপূর্ণ বিল!

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আইনি স্বীকৃতি দিতে এবার রাজ্যসভায় আনা হচ্ছে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল—‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল’। এই দুটি বিল ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাস হয়ে গেছে। আজ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আলোচনার পর এগুলো পাস করানোর জন্য রাজ্যসভায় পেশ করবেন।
মূল বিল দুটিতে ঠিক কী কী পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬
চলতি বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনের সংকট সামলাতে সরকার এই বিলের আওতায় ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’, ‘ইনকাম-ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ এবং ‘ফিনান্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো:
- বিদেশি ফান্ড ম্যানেজমেন্টে সরলীকরণ: বিদেশে থাকা যোগ্য বিনিয়োগ তহবিল ও ফান্ড ম্যানেজারদের জন্য নিয়ম সহজ করা, যাতে ভারতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী ছাড়: দেশীয় কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের কাছে মেটেরিয়াল বা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলোর পাওয়া কর ছাড়ের মেয়াদ ২০৩১ থেকে বাড়িয়ে ২০৪১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, সার্ভার, স্মারটওয়াচ বা ওয়্যারেবলের মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল পণ্যগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
- বিদেশি বিনিয়োগকারী ও হীরে ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা: এফআইআই (FII) এবং ‘ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস’-এর ক্ষেত্রে সরকারি সিকিউরিটিজে সুদের আয় ও মূলধনী লাভকে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে নোটিফায়েড জোনে বিদেশি হীরে কো ম্পা নি বা দালালদের কাঁচা হীরে বিক্রির আয়ে ২০৪১ সাল পর্যন্ত কর ছাড় দেওয়া হবে।
- পেমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন: বিজনেস ট্রাস্টের এসপিভি (SPV) সংক্রান্ত পুরনো জটিল নিয়ম তুলে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্ট মোড থেকে ব্যাংকগুলো যাতে বাড়তি কোনো ফি বা চার্জ না নিতে পারে, সে বিষয়ে সরকার নীতি নির্ধারণ করতে পারবে।
২. ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল
ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারের সাথে তাল মিলিয়ে পুরনো আইনকে আধুনিক রূপ দিতে এই বিল আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বা রেকর্ডগুলোকে আইনি দিক থেকে বৈধ ও আদালত বা যেকোনো তদন্তের ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।