মা’র চিঠিতেই মোড় ঘুরালো আরজি কর কাণ্ড: কমিশন গঠন করে নতুন তদন্তের বড় ঘোষণা!

২০২৪ সালে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পুরো দেশ। প্রায় দুই বছর পর চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি আবার নতুন মোড় নিল। নিহত চিকিৎসকের মায়ের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাটির নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) জলহাটিতে আয়োজিত এক শোকসভায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বড় পদক্ষেপের কথা জানান।
এক নজরে ৫টি মূল তথ্য:
- নতুন তদন্তের নির্দেশ: দীর্ঘ দুই বছর পর আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুনরায় তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- মা’র আবেগঘন আবেদন: বিচার পেতে এবং প্রকৃত সত্য সামনে আনতে নিহতের মা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন।
- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বড় গাফিলতি: কেবল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডই নয়, নিহতের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পৃথক তদন্ত করা হবে।
- উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত: মুখ্য সচিব ও আইনি বিশেষজ্ঞদের দলের সাথে আলোচনার পর ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের অধীনে নতুন করে কমিশন গঠন করা হচ্ছে।
- আগের রায়: উল্লেখ্য, এই মামলার মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আগেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
কেন এই নতুন তদন্ত?
জলহাটিতে নির্যাতিতা চিকিৎসকের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিহতের মা রত্না দেবনাথ একটি চিঠি লিখে ঘটনার নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নিহতের পরিবারের অবর্ণনীয় কষ্ট ও আইনি দিক বিবেচনা করে ১৯৫২ সালের ‘বিশেষ কমিশন আইন’-এর আওতায় নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা ও শেষকৃত্য ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
তদন্তের নতুন এই ধাপে পুলিশের ভূমিকা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তড়িঘড়ি সম্পন্ন করা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পুলিশ দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, নটগড় কদমতলা শ্মশানে মরদেহ দাহ করার তালিকায় প্রথমে নাম পেছনের দিকে থাকলেও, রহস্যজনকভাবে সেটিকে সামনে এনে তড়িঘড়ি দাহকাজ সম্পন্ন করা হয়। পরিবারের ধার্যকৃত ফি দেওয়া হয়নি এবং কোনো নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর ছাড়াই এই দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে সোমনাথ দে, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখার্জির মতো ব্যক্তিদের চক্রান্ত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
যেহেতু মূল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের আওতাধীন, তাই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ঘটা এই অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের বিষয়টি রাজ্য পুলিশ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আলাদাভাবে তদন্ত করবে।