তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলা: দৈনন্দিন খরচে স্পেশাল অফিসারেই আস্থা সুপ্রিম কোর্টের!

তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এবং দৈনন্দিন খরচের ওপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) কড়াকড়ি নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এক দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলে।
কলকাতা হাইকোর্ট আগেই অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতিকে ‘স্পেশাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করেছিল এবং তাঁর নজরদারিতে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দেয় যে, দল পরিচালনা যাতে পুরোপুরি স্তব্ধ না হয়ে যায়, সেটাই আপাতত আদালতের মূল লক্ষ্য। তাই দৈনন্দিন খরচের বিষয়টি হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের বিবেচনার ওপরই ছেড়ে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির নিষ্পত্তি করেছে।
আদালতের শুনানিতে যা উঠে এল:
- কপিল সিব্বলের যুক্তি: তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, প্রায় ২৫০ জন দলীয় কর্মীর চলতি মাসের বেতন বাবদ প্রায় ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া দলের ১৭টি অফিস চালানো, নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যান্য ভেন্ডরদের পাওনা মেটাতে মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ED-র দাবি অনুযায়ী অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ যেখানে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, সেখানে দলের অ্যাকাউন্টে থাকা ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ কেন আটকে রাখা হবে?
- ইডি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য: অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের দুটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি, যেখানে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় খরচ চালানো সম্ভব।
- অন্যান্য পক্ষের আপত্তি: মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ও কে পরমেশ্বর জানান, ফ্রিজ না থাকা অ্যাকাউন্টগুলি সদস্যদের কল্যাণ তহবিল বা সংবাদপত্রের জন্য নির্দিষ্ট। সেখান থেকে অফিসের ভাড়া বা বেতন মেলালে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে দলের অন্দরমহলের বিরোধের বিষয়টিকেও আদালতে তুলে ধরা হয়।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসারের ওপরই ন্যস্ত রেখেছে, যাতে মূল মামলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ তাঁদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পান।