কলকাতার মাটিতেই জন্ম তেরঙ্গার! জানা-অজানা ৪ দশকের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস

কলকাতা: ভারতের জাতীয় পতাকা কেবল তিনটি রঙ বা সুতোয় বোনা একটি কাপড় নয়; এটি আমাদের স্বাধীনতা, ত্যাগ, শান্তি ও অগ্রগতির প্রতীক। কিন্তু আজকের যে ‘তেরঙ্গা’ আমরা গর্বের সাথে ওড়াই, তা একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ চার দশকের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পর আজ এই রূপ পেয়েছে দেশের পতাকা। আর এর ঐতিহাসিক যাত্রার প্রথম সূচনাটি হয়েছিল এই কলকাতার বুকেই!
📍 কলকাতা থেকেই শুরু সেই প্রথম পথচলা
১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের উত্তাল সময়ে কলকাতায় প্রথম ভারতের এক ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর ঠিক পরের বছর, ১৯০৭ সালে ম্যাডাম ভিকাজি কামা বিদেশের মাটিতে স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরে আরেকটি পতাকা ওড়ান। এরপর ১৯১৭ সালে হোম রুল আন্দোলনের সময় অ্যানি বেসান্ত ও বাল গঙ্গাধর তিলকও পতাকার নকশায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।
🎨 পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া ও ‘চরকা’র আগমন
১৯২১ সালে পতাকার ইতিহাসে আসে বড় পরিবর্তন। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া এমন একটি পতাকার নকশা তৈরি করেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনের পাশাপাশি স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে ‘চরকা’ যুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৩১ সালে পতাকার রঙের তাৎপর্য নির্দিষ্ট করা হয়—
- গেরুয়া: সাহস ও আত্মত্যাগ
- সাদা: শান্তি ও সত্য
- সবুজ: সাম্য, উর্বরতা ও সমৃদ্ধি
সবশেষে, চরকার স্থানে অশোক চক্র বসিয়ে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদে এই নকশাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।
🏛️ ইতিহাসের সাক্ষী: চেন্নাইয়ের সেই প্রথম তেরঙ্গা
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার প্রথম ভোরে যে ঐতিহাসিক রেশমি তেরঙ্গাটি ওড়ানো হয়েছিল, তা আজও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সংরক্ষিত রয়েছে চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জ মিউজিয়ামে। ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই পতাকাটি চার দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের এক নীরব সাক্ষী।