অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশের দাবি ওড়াল ভারতীয় সেনা, ‘সব পোস্ট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত’, স্পষ্ট বার্তা দিল্লির

অরুণাচল প্রদেশে চিনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের যাবতীয় দাবি ও জল্পনা স্রেফ উড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। দিল্লির তরফে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের এক ইঞ্চি জমিও হাতছাড়া হয়নি। সীমান্ত সংলগ্ন দেশের প্রতিটি সামরিক আউটপোস্ট ও ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সেনার শক্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষা ২৭টি অতি সংবেদনশীল ও কৌশলগত এলাকার ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন করেছিল চিন। তবে এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র মানচিত্রে ওই এলাকাগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে ভারত। এর পরপরই চিনের জমি দখলের গুঞ্জন ছড়ালে সেনার উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে জানানো হয়, “ভারতের কোনও ভূখণ্ড খোয়া যায়নি। সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল’ (PPA)-র একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি দাবি করেছিল, আপার সুবনসিরির তাংসিং এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) নাকি ভারতীয় টহলদারি বাহিনীকে বেশ কিছু পয়েন্টে যেতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি স্থানীয়দের পশু চরানোর জায়গাতেও তারা যাতায়াত রুদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ তোলে দলটি।
তবে সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিনের তথাকথিত ‘ধীরে ধীরে জমি দখল’ বা অনুপ্রবেশের এই দাবির পেছনে কোনও বাস্তব তথ্য-প্রমাণ নেই। নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে জল্পনা ছড়ানো সস্তায় ‘নজর কাড়ার অপচেষ্টা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সেনা সূত্রে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১৯৬০ সাল থেকেই চিন সম্পূর্ণ অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে আসছে। ১৯৫৯ সালে আসাম রাইফেলসের লংজু আউটপোস্টে হামলার পর থেকে চিনের দখলে থাকা নির্দিষ্ট অংশটি ছাড়া বাকি সীমান্তে ভারতীয় সেনার পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। গ্রেট হিমালয় সংলগ্ন এই কঠিন ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত যোগাযোগ ও পরিকাঠামো গড়ে তোলায় ভারতীয় সেনা ও আইটিবিপি (ITBP)-র নজরদারি ক্ষমতা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সীমান্ত সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না থাকায় মাঝেমধ্যে দু’দেশের সেনা মুখোমুখি হলেও নির্ধারিত প্রোটোকলের মাধ্যমে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হয়। চিনের যেকোনও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ ব্যর্থ করতে ভারতীয় সেনা যে সবদিক থেকে প্রস্তুত, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল দিল্লি।