নথি সংকটে ৩ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী! রাজ্যজুড়ে চাকরি হারানোর তীব্র আতঙ্ক ও বিক্ষোভ

নথি সংকটে ৩ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী! রাজ্যজুড়ে চাকরি হারানোর তীব্র আতঙ্ক ও বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩ লক্ষ অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মী রাতারাতি চাকরি হারানোর চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে যেমন তীব্র অসন্তোষ ও শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনই স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছে একাধিক সরকারি পরিষেবা।

সংকটের মূল কারণ

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবেই মূলতঃ এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এই কর্মচারীরা। নিয়ম অনুযায়ী, তালিকায় নাম না থাকায় যে কোনো মুহূর্তে তাঁদের বরখাস্ত করা হতে পারে। এতে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবিকা যেমন বিপন্ন, তেমনই থমকে যেতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন চলমান প্রশাসনিক কাজ।

ক্ষোভ ও শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি

পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন জেলায় পথে নেমেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। শ্রমিক ইউনিয়নগুলির মূল দাবি:

  • নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের কাজে বহাল রাখা
  • নথি নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া সহজ ও সরলীকরণ করা।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে:

  • কুনাল ঘোষ (টিএমসি বিধায়ক): ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দোষ ছাড়া এত মানুষ চাকরি হারালে সরকারকে জবাব দিতে হবে। তিনি তড়িঘড়ি যাচাইকরণ বা সাময়িক নিরাপত্তার দাবি জানান।
  • সজল ঘোষ (শাসক দলের বিধায়ক): ভিন্ন সুর টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিয়ম ও কাগজপত্র ছাড়া কেউ কীভাবে নাগরিক হতে পারে? এতে কাজ ব্যাহত হলেও আইন মেনে চলা উচিত বলে মত দেন তিনি।

প্রশাসনিক অবস্থান: সূত্রের খবর, নথি যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে। উদ্ভূত মানবিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কর্মচারীদের কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ বা সাময়িক ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি আলোচনা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *