গিগ ওয়ার্কারদের জন্য বড় পদক্ষেপ, মাত্র ৯৯ টাকায় শুরু করা যাবে জাতীয় পেনশন স্কিম

নরেন্দ্র মোদি সরকার ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে, যার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার বা গিগ ওয়ার্কাররা মাত্র ৯৯ টাকাতেই তাঁদের অবসরের জন্য সঞ্চয় শুরু করতে পারবেন।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা?
মূলত জোম্যাটো (Zomato), সুইগি (Swiggy), ব্লিনকিট (Blinkit), ওলা (Ola), উবার (Uber) এবং আরবান কো ম্পা নি (Urban Company)-র মতো প্ল্যাটফর্মে কর্মরত কর্মীদের কথা মাথায় রেখেই এই স্কিমটি তৈরি করা হয়েছে। এতে অর্থ জমার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা বা সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়নি, ফলে কর্মীরা তাঁদের সুবিধামতো যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা করতে পারবেন।
টাকা জমার নমনীয় নিয়ম:
এই স্কিমে বিনিয়োগ বা টাকা জমা করার জন্য ৩টি সহজ পথ রয়েছে: ১. প্ল্যাটফর্ম ও কর্মী—উভয়ে মিলেই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে পারেন।
২. কর্মী নিজে একাই সম্পূর্ণ টাকা জমা করতে পারেন।
৩. প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাগ্রিগেটর সংস্থা কর্মীর পক্ষ থেকে টাকা জমা করতে পারে।
প্রতিবারে কত টাকা জমা হবে, তা কর্মী ও প্ল্যাটফর্ম আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারবেন। এর ফলে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বড় টাকা জমার চাপ থাকবে না।
অ্যাকাউন্ট খোলার ও বিনিয়োগের পদ্ধতি:
- প্রথম ধাপ (KYC ও রেজিস্ট্রেশন): অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য গিগ কর্মীদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য নাম, ঠিকানা, প্যান (PAN), মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রয়োজন হবে। কেওয়াইসি সফল হলে কর্মীকে একটি ‘পার্মানেন্ট রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর’ (PRAN) প্রদান করা হবে। শুরুতে প্ল্যাটফর্ম কর্মীকে ফান্ড ও স্কিম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবে, যা পরবর্তীতে পরিবর্তনও করা যাবে।
- দ্বিতীয় ধাপ (অতিরিক্ত তথ্য ও নমিনি): এরপর পিতা-মাতার নাম, ইমেল আইডি এবং নমিনির তথ্য জমা দিতে হবে। যুক্ত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নমিনির নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
যদি কোনো কর্মী একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন, তবে তাঁর এনপিএস অ্যাকাউন্টটি একটি অ্যাগ্রিগেটরের মাধ্যমে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা অন্য প্ল্যাটফর্মে সহজে পোর্টেবিলিটি (স্থানান্তর) করা সম্ভব।